Bengal Liberty:
জনগণের অংশগ্রহণে জনগণনা প্রক্রিয়ায় দেশের মধ্যে নতুন নজির গড়ল পশ্চিমবঙ্গ। ২০২৭ সালের জনগণনার(Census 2027) জন্য রাজ্যে শুরু হওয়া স্ব-গণনা প্রক্রিয়ায় ৫৩ লক্ষেরও বেশি পরিবার অংশ নিয়েছে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ৫৩ লক্ষ ১৩ হাজার ৫৮৯টি পরিবার স্ব-গণনা প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর মধ্যে ৪৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ১৭টি পরিবার ইতিমধ্যেই নিজেদের গণনার কাজ সম্পূর্ণ করেছে। সামগ্রিকভাবে সম্পূর্ণতার হার ৯৩.৮৪ শতাংশ। সরকারি এক বিবৃতিতে এই তথ্যই উঠে এসেছে।

বাড়ি থেকেই দায়িত্ব পালন(Census 2027)
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে স্ব-গণনার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি পরিবারকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গই শীর্ষে রয়েছে। ১ আগস্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সাধারণ মানুষের এমন ব্যাপক সাড়া কার্যত রাজ্য সরকারের উদ্যোগের সাফল্যকেই সামনে এনেছে।
এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, জনগণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় মানুষকে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া। এতদিন যে কাজের জন্য সরকারি কর্মীদের বাড়ি বাড়ি যেতে হত, এবার তার একটি বড় অংশ সাধারণ মানুষ নিজের বাড়িতে বসেই সম্পন্ন করতে পেরেছেন। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণনার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার চেষ্টা হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কাজের চাপ কমেছে, অন্যদিকে নাগরিকদের মধ্যেও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মানসিকতা তৈরি হয়েছে।
আরও খবর

ডিজিটাল জনগণনায় নজির(Census 2027)
রাজ্যের ২৩টি জেলার মধ্যে মালদহ এবং উত্তর ২৪ পরগনা স্ব-গণনায় সবচেয়ে ভালো ফল করেছে। ব্যাপক প্রচার, সচেতনতা এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতাকেই এই সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে রাজ্য সরকার।
এই সাফল্যে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সরকারের উদ্যোগ তখনই সফল হয়, যখন সাধারণ মানুষ সেই উদ্যোগকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন। বাড়িতে বসেই লক্ষ লক্ষ মানুষ জনগণনার কাজে অংশ নিয়ে কার্যত সেই দায়িত্ব পালন করেছেন।
Census 2027
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ শুধু একটি জনগণনা প্রক্রিয়া নয়, বরং প্রশাসন ও নাগরিকের মধ্যে সরাসরি অংশীদারিত্বের একটি নতুন দৃষ্টান্ত। ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণকে যুক্ত করে পশ্চিমবঙ্গ যে নজির তৈরি করেছে, তা আগামী দিনের জনপরিষেবা ব্যবস্থাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে দাবি প্রশাসনের।

আরও পড়ুন:জোড়া খুনে ন্যায়বিচারের দাবি! হাসপাতালে শুভঙ্কর সরকার


