Bengal Liberty : শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। প্রচলিত পাঠ্যক্রমে রাজ্যের ইতিহাসের ‘গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়’ আড়াল করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে এবার সিলেবাসে বড়সড় রদবদলের রূপরেখা পেশ করলেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের জন্ম, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা, স্বামী প্রণবানন্দের অবদান থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মত্যাগ-নতুন প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানাতেই পাঠ্যবইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি স্কুলের প্রার্থনাসভায় ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করা এবং বাংলা ভাষার প্রসারের সঙ্গে সংস্কৃত ঐতিহ্যকে সংরক্ষণে ‘সংস্কৃত দিবস’ পালনের মতো একাধিক সংস্কারের কথাও তুলে ধরেন তিনি (CM Suvendu Adhikari)।

পাঠ্যবইয়ে ফিরবে পশ্চিমবঙ্গের ‘অজানা’ ইতিহাস (CM Suvendu Adhikari)
বর্তমান পাঠ্যসূচির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের ইতিহাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, টাটাদের রাজ্য থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠ্যবইয়ে আলোচনা থাকলেও ১৯৪৭ সালের ২০ জুন কীভাবে পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়েছিল, সেই ইতিহাস প্রায় অনুল্লেখিত। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কীভাবে পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন এবং স্বামী প্রণবানন্দের অবদান-সেই বিষয়গুলিও ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে ১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তমলুকের স্বাধীনতা আন্দোলনে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে শহিদ হওয়ার আগে মাতঙ্গিনী হাজরার ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনির মতো আত্মত্যাগের ঘটনাকেও পাঠ্যক্রমে বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, ইতিহাসচেতনা ও জাতীয়তাবোধ গড়ে তুলতেই এই পরিবর্তন জরুরি।

প্রার্থনাসভায় বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’ (CM Suvendu Adhikari)
শিক্ষায় মূল্যবোধ ও জাতীয়তাবোধ ফিরিয়ে আনতে একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, দেশের অন্তরাত্মায় গাঁথা ‘বন্দে মাতরম’ এবার প্রতিটি স্কুলের প্রার্থনাসভায় গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে কোনও আপস করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। পাশাপাশি বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারের সঙ্গে প্রাচীন সংস্কৃত ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে রাজ্যজুড়ে ‘সংস্কৃত দিবস’ পালনের উদ্যোগের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের আদর্শ অক্ষুণ্ণ রেখে শিক্ষাক্ষেত্রে এই সংস্কারগুলি বাস্তবায়নে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।
আরও খবর

আরও পড়ুন:
https://bengalliberty.com/2026/09/05/cm-suvendu-adhikari-172/


