Bengal Liberty : নিজের ১৫ বছরের মেয়েকে বারবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। নির্যাতিতা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তানের জন্মও দেয়। সেই মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ (Jalpaiguri Circuit Bench)। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, সন্তানের কাছে যে বাবা ‘যত্ন, স্নেহ ও নিরাপত্তা’র প্রতীক, সেই সম্পর্ককে ভয় দেখানো ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে অপরাধের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। নাবালিকা মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত জীবন রাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বহাল রেখেছে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের ডিভিশন বেঞ্চ। গত ২৮ আগস্ট অভিযুক্তের আপিল খারিজ করে আদালত (Jalpaiguri Circuit Bench)।

১৫ বছরের মেয়ের উপর বারবার নির্যাতন (Jalpaiguri Circuit Bench)
ঘটনাটি ২০১৭ সালের। কালিম্পংয়ের গরুবাথান থানায় নাবালিকার এক নিকট আত্মীয় অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অভিযোগ, নিজের প্রায় ১৫ বছরের মেয়েকেই একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেছিলেন জীবন রাই। পরবর্তী সময়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই নাবালিকা।২০১৭ সালের নভেম্বরে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয় সে। মামলার বিচারপর্বে অভিযুক্তকে পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ট্রায়াল কোর্ট। বাকি জীবনের অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও চার বছরের কারাদণ্ডের কথাও জানায় আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধেই হাই কোর্টে আপিল করেন জীবন রাই।

‘ডিএনএ পরীক্ষা হয়নি’, যুক্তি খারিজ হাই কোর্টের (Jalpaiguri Circuit Bench)
হাই কোর্টে অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি ছিল, ঘটনার সময় নাবালিকার বয়স যথাযথভাবে প্রমাণ করা যায়নি। পাশাপাশি মামলায় ডিএনএ পরীক্ষাও করা হয়নি। তবে সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জন্মের শংসাপত্র, নাবালিকার নিজের বক্তব্য এবং চিকিৎসকের সাক্ষ্য খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হয় যে ঘটনার সময় তার বয়স ১৮ বছরের নিচে ছিল। চিকিৎসকের রিপোর্টেও তাকে প্রায় ১৫ বছরের বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই সময় সে প্রায় ২৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিল বলেও চিকিৎসক জানিয়েছিলেন।
আরও খবর
আদালতের মতে, শুধুমাত্র ডিএনএ পরীক্ষা হয়নি-এই কারণ দেখিয়ে কোনও অভিযুক্তকে খালাস দেওয়া যায় না। মামলায় থাকা অন্যান্য প্রমাণ এবং বিশেষ করে নির্যাতিতার সাক্ষ্য যদি বিশ্বাসযোগ্য ও পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা হলে ডিএনএ প্রমাণ না থাকলেও অপরাধ প্রমাণ করা সম্ভব। ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, যৌন অপরাধের মামলায় নির্যাতিতার সাক্ষ্য বিশ্বাসযোগ্য হলে শুধুমাত্র সেই সাক্ষ্যের ভিত্তিতেও অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা আইনত সম্ভব। এই মামলায় নাবালিকার বক্তব্যকে বিশ্বাসযোগ্য এবং ধারাবাহিক বলেই মনে করেছে আদালত।

বেঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, যে ব্যক্তির কাছ থেকে একটি সন্তান ‘যত্ন, স্নেহ ও নিরাপত্তা’ পাওয়ার কথা, সেই ব্যক্তি যখন পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ভয় ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন, তখন সেই অপরাধের গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। সেই কারণেই নিম্ন আদালতের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজায় হস্তক্ষেপের কোনও কারণ দেখেনি হাই কোর্ট।
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/09/01/durgapur-municipal-corporation/


