Bengal Liberty : বিধানসভায় বুধবার নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল (Kunal Ghosh)। শুরু হয় তুমুল হট্টগোল, চ্যাংদোলা করে বের করে দেওয়া হয় কুণাল ঘোষকে। সাসপেন্ড করা হয় তাঁকে। জানা গিয়েছে ঘটনার সূত্রপাত হয় আখেরুজ্জামানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, বক্তৃতার সময় সামনে গিয়ে বাধা দেন কুণাল ঘোষ। এরপর মার্শালদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, তীব্র বাকবিতণ্ডা এবং হইচইয়ের মধ্যে পড়ে যান তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার বারবার সতর্ক করে শেষ পর্যন্ত কুণাল ঘোষকে মার্শাল দিয়ে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর প্রতিবাদে কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়করা ওয়াকআউট করেন। ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন বিধায়কের সঙ্গে শারীরিকভাবে এমন আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং বিধানসভায় এমন দৃশ্য তিনি আগে দেখেননি বলেও জানান (Kunal Ghosh)।

কী ঘটেছিল বিধানসভায়? (Kunal Ghosh)
বুধবার বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জমানের বক্তব্যকে ঘিরে। অভিযোগ, আখরুজ্জমান বক্তব্য রাখতে উঠতেই তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ান বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বারবার প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না এবং কেন তাঁর নাম বক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ শিবিরের প্রভাবে কালীঘাটপন্থী বিধায়কদের বক্তব্য রাখার সুযোগ নিয়মিতভাবে খর্ব করা হচ্ছে। এই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা, যা মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার কুণাল ঘোষকে কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করলে মার্শালরা তাঁকে বের করে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। সেই সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে পড়ে যান কুণাল ঘোষ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং পরে প্রতিবাদ জানিয়ে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়করা ওয়াকআউট করেন।
আরও খবর

কড়া প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Kunal Ghosh)
বিধানসভার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পরিষদীয় দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও বিধানসভার মর্যাদা নষ্ট করে এমন আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।শুভেন্দু বলেন, বহুবারের অভিজ্ঞ বিধায়কেরাও এই বিধানসভায় রয়েছেন, কিন্তু এমন বিশৃঙ্খল ও অসভ্য পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিরোধী দল এবং শাসক, উভয় ভূমিকাতেই কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সেই অভিজ্ঞতার নিরিখেই এ দিনের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জমান দীর্ঘদিনের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, বক্তব্য রাখার সময় আখরুজ্জমানের দিকে শারীরিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। লিডার অফ দ্য হাউস হিসেবে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/07/22/kalyan-banerjee-13/


