Bengal Liberty: ওবিসি সার্টিফিকেটকে (OBC Certificate Scam Against Mamata Govt) রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ ফের ঘিরে ধরেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযয়ের সরকারকে। বিরোধীদের দাবি, বছরের পর বছর তৃণমূল কংগ্রেসের বহু নেতা ভুয়ো ওবিসি সার্টিফিকেট জমা দিয়ে সংরক্ষিত আসনে ভোটে দাঁড়িয়ে বেআইনিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এই ধরনের কেলেঙ্কারি সম্ভব নয় বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রমাণ সমেত বৃহস্পতিবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন তিনি। সেখানেই তিনি শাসকদলের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তোলেন।


প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এই ধরনের কেলেঙ্কারি সম্ভব নয় বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সাম্প্রতিক ঘটনায় নজর কেড়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চণ্ডীপুর ব্লকের ঈশ্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান খুকুরানি মণ্ডল ঘোরাই। জানা গিয়েছে, তিনি ভুয়ো ওবিসি সার্টিফিকেট জমা দিয়ে সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হন। তদন্তে সত্যতা প্রকাশিত হওয়ায় প্রধানের পদ থেকে তাঁকে সরে যেতে হচ্ছে। এমনকি সাধারণ সদস্য হিসেবেও আর গ্রাম পঞ্চায়েতে থাকতে পারবেন না তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা কেবল বরফের চূড়া। একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে রাজ্য জুড়ে এমন হাজার হাজার ঘটনা সামনে আসতে পারে।
আরও খবর
বিরোধীদের অভিযোগ (OBC Certificate Scam Against Mamata Govt)
রাজনৈতিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছাকৃতভাবে ওবিসি শ্রেণিবিভাগকে অপব্যবহার করছেন। শুধু তৃণমূল নেতাদের সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী করার সুযোগই নয়, মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যও ওবিসি ক্যাটাগরির সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি—যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ এবং সরকারি চাকরির ক্ষেত্র।
বর্তমান শিক্ষা-সংকটও এই অপব্যবহারের সরাসরি ফল বলে দাবি বিরোধীদের। এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারের তৈরি বিতর্কিত ওবিসি তালিকা বাতিল করেছিল। আদালতের সেই রায় মেনে না-নিয়ে সরকার দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় কলেজে ভর্তি কার্যত স্থগিত হয়েছে। পাশাপাশি জেইই পরীক্ষার ফল প্রকাশও আটকে গিয়েছে। ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন প্রায় পাঁচ লক্ষ ছাত্রছাত্রী। কেউ কেউ রাজ্যের বাইরে গিয়ে ভর্তি হতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার অনেকে বেসরকারি কলেজে বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন।
বিরোধীদের বক্তব্য, ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর এই নীতি আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিচ্ছে।


