SIR Case Update
Bengal Liberty Digital Desk, ৪ ডিসেম্বর, কলকাতা: গত ৪ঠা নভেম্বর থেকে চালু হয়ে গেছে এস আই আর। যার জন্য ক্রমেই মানুষের মধ্যে এক নতুন আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। আজ ৪ঠা ডিসেম্বর অর্থাৎ এস আই আর এর (SIR – Special Intensive Revision) এক মাসের পূর্তি ঘটল। তার মধ্যেই দেখা যাচ্ছে হাজারো বিক্ষোভ,হাজারো মৃত্যু কিন্তু কোন কিছুর মধ্যেই এস আই আর কে (West Bengal SIR) বন্ধ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
SIR-এ কাদের নাম বাদ যাবে?
এস আই আর এর মূল বিষয় প্রধানত চার ধরনের নাম বাদ যাবে, যার মধ্যে প্রথম হল অনুপ্রবেশকারী ভোটার অর্থাৎ যারা বাইরে থেকে এসে এখানে নিজে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। দ্বিতীয়, মৃত ভোটার অর্থাৎ যারা মারা গেছেন তাদের ভোট বন্ধ হওয়া। তৃতীয়, ভুয়ো ভোটার এবং সবশেষে যারা এখানে থাকেন না বাইরের রাজ্যে বা দেশে থাকেন তাদের এখানের যে ভোট তা বন্ধ হওয়া। সুত্রের খবর এখনও পর্যন্ত যা মিলেছে তাতে খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে-
| SL No. | Category | Number of Voters |
| ১. | মৃত অর্থাৎ ডেড ভোটার | ২৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৫ জন |
| ২. | স্থানান্তরিত | ১৮ লক্ষ ৫৫ হাজার ৩০২ |
| ৩. | নিখোঁজ | ৯ লক্ষ ৪২ হাজার ১৬২ |
| ৪. | ডুপ্লিকেট অর্থাৎ ভুয়ো | ১ লক্ষ ২২ হাজার ৩০৩ |
| ৫. | অন্যান্য | ৩১ হাজার ৮০১ |
| মোট | ৫২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৬৩ |
বিএলও-র মৃত্যু এবং রাজনৈতিক বিতর্ক
৫২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৬৩ জনের নাম বাদ যাওয়ার এই পরিসংখ্যান পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের উপর এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সহ বামেরা এবং কংগ্রেস প্রথম থেকেই এই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে এসেছে।

এসআইআর চলাকালীন বিএলও-দের রহস্যজনক মৃত্যু এবং কাজের চাপ নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। বারংবার উত্তর এসেছে যে এসআইআর-এর চাপের কারণেই বিএলও-রা আত্মহত্যা করছেন। তবে অদ্ভুত বিষয় হলো, সম্প্রতি এমন ঘটনাও সামনে এসেছে যেখানে একজন বিএলও-এর আঙুল না থাকা সত্ত্বেও তাঁর তরফ থেকে সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও, বেশ কিছু দলঘেঁষা বিএলও-কে সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিচয় দেওয়ার আগে ফোন বা চিরকুট দেখে কথা বলতে দেখা গিয়েছে, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব?
ভোটার তালিকার উপর এই বিরাট প্রভাব পড়ার পর এখন রাজ্যের রাজনীতিতে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে— ভোটার তালিকা থেকে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ গেলে, তা ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন বা ‘Paschim Banga Nirbachan’-এর রাজনৈতিক প্রভাব ঠিক কতটা ফেলবে? এটাই এখন দেখার বিষয়।

