TMC Shoaib Kabeer
Bengal liberty Desk, ২৪ ডিসেম্বর, কলকাতা: নির্বাচন এলই যেন দল বদলের হিড়িক পড়ে যায়। রাজ্য রাজনীতিতে ফের অস্বস্তিতে তৃণমূল (TMC)। টলিউড অভিনেতা শোয়েব কবীরের (Shoaib Kabeer)। দলত্যাগে এ বার ভোটের মুখে শাসকদলের অন্দরের ভাঙন প্রকাশ্যে। বলিউড ও টলিউড দুই ইন্ডাস্ট্রির এই শিল্পী দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল-কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুর্শিদাবাদে শিকড় থাকা শোয়েবকে এত দিন দলের তরুণ মুখ হিসেবেই তুলে ধরা হত।
তৃণমূল কংগ্রেস কেন ছাড়লেন অভিনেতা (TMC Shoaib Kabeer)?
রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ছিল তাঁর সক্রিয় ভূমিকা। একাধিক কর্মসূচিতে তাঁকে দলের নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা গিয়েছে, পাশাপাশি দলের সাংস্কৃতিক ও যুব সংগঠনের কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের (TMC MP Saayoni Ghosh) ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হিসেবেও তাঁর নাম উঠে এসেছে বারংবার। কিন্তু নির্বাচনের আগে হঠাৎই নাটকীয় মোড়। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে হুমায়ুন কবীর এর (Humayun Kabir) নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (JUP)-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শোয়েব কবীর। নতুন দলে তিনি রাজ্য মুখপাত্রের দায়িত্ব সামলাবেন বলেই জানা গিয়েছে। এই দলত্যাগকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে তবে কি তৃণমূলের অন্দরের অসন্তোষ আর চাপা থাকছে না?

দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শোয়েব কবীর (TMC Shoaib Kabeer) স্পষ্ট করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে হতাশ করেছে। তাঁর বক্তব্য, দলের মধ্যে ভাঙন এখন আর আড়ালে নেই। একজন তরুণ রাজনীতিক হিসেবে তিনি মনে করেছেন এই অবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। সেই পরিবর্তনের খোঁজেই নতুন রাজনৈতিক পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়ে্ছেন অভিনেতা। শোয়েবের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে আরও বড় রাজনৈতিক বার্তার। তাঁর মতে, রাজনীতিতে নতুন পথ তৈরি করার উদাহরণ অতীতেও রয়েছে এবং সেই পথেই তিনি এগোতে চান। এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল নেতৃত্বের অস্বস্তি বাড়িয়েছে।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই দলত্যাগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। যদিও কোন কেন্দ্র থেকে শোয়েব কবীর (TMC Shoaib Kabeer) প্রার্থী হবেন, তা এখনও চূড়ান্ত নয়, তবে এটুকু প্রায় নিশ্চিত তিনি জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হিসেবেই ভোটের ময়দানে নামবেন।একদিকে যখন তৃণমূল কংগ্রেস তারকা প্রার্থী এনে নির্বাচনী সমীকরণ সাজানোর চেষ্টা করছে, তখন দলের তরুণ ও পরিচিত মুখদের একাংশের এইভাবে সরে যাওয়া শাসকদলের অন্দরের সংকটকেই আরও স্পষ্ট করছে। তৃণমূলের (TMC) বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শোয়েব কবীরের এই নতুন রাজনৈতিক যাত্রা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেটাই দেখার।
