বিট্টু রায়চৌধুরী, Bengal Liberty: চক্রান্তের জল বয়ে গেল রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত। নেতাজির (Netaji) ‘ভুয়ো’ চিতাভস্ম দেশে ফিরিয়ে আনার নামে যে ভাঁওতাবাজি অব্যাহত, তাতে নবতম সংযোজন চন্দ্র বসুর রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হওয়া। চিঠির মাধ্যমে আবেদন করলেন, আগামী ২৩ জানুয়ারির আগে জাপানের রেনকোজি মন্দির থেকে নেতাজির চিতাভস্মটি দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। এখানেই সুভাষ গবেষকদের পাল্টা বক্তব্য, যেখানে কোনও বিমান দুর্ঘটনা-ই হয়নি, সেখানে চিতাভস্মের কথা আসছে কোথা থেকে? মুখার্জি কমিশনের রিপোর্ট, তাইওয়ান ফাইল সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাননি (Netaji)। রেনকোজি মন্দিরে যে চিতাভস্ম রাখা, সেটা নেতাজির নয়। তা-হলে কেন চন্দ্রবাবু একবার প্রধানমন্ত্রী, পরেরবার রাষ্ট্রপতির হাতে-পায়ে ধরছেন ভুয়ো, মিথ্যা চিতাভস্ম দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য?
ইতিমধ্যে, মুখার্জি কমিশন বিমান দুর্ঘটনার তত্ত্ব অস্বীকার করে দিয়েছে। কিন্তু, কোনও এক অজ্ঞাত রাজনৈতিক কারণে সংসদে রিপোর্টটি টেবিল হলেও খারিজ হয়ে যায়। তাইওয়ান রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার এখনও প্রকাশ্যে আনছে না। নেতাজি গবেষকদের দাবি, এই রিপোর্ট সরকারিভাবে প্রকাশ করলেই স্পষ্ট হবে, ওইদিন কোনও বিমান-ই ওড়েনি। কিন্তু, সেটা আর হচ্ছে কই! এই অবস্থায় নেতাজির পরিবারের অন্যতম সদস্য চন্দ্র বসুর এমন মানসিকতা অনেক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন গবেষকরা (Netaji)
চন্দ্র বসুর এমন সিদ্ধান্তের জেরে অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন নেতাজির অনুগামীরা। সম্প্রতি তাঁরা কলকাতায় এক সম্মেলনে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সভা করেছেন। যদিও, ততদিনে চন্দ্রবাবু প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিতাভস্ম ফিরিয়ে আনার আবেদন করে ফেলেছেন। এবার, সেই রেশ কাটতে না-কাটতে একই ইস্যুতে সরাসরি চন্দ্র বসুর রাষ্ট্রপতিকে চিঠি পাঠানোতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ পরিবারের আরেকটা অংশ থেকে শুরু করে গবেষক এবং অনুগামীগণ। জানা যাচ্ছে, এই মর্মে তাঁদের পক্ষ থেকে আগামী জানুয়ারি মাসে একটি জনস্বার্থ মামলা করা হবে। এই মুহূর্তে, নেতাজি গবেষক সৈকত নিয়োগী এবং সৌমব্রত দাশগুপ্ত রেনকোজি মন্দিরে রাখা চিতাভস্মটি কার, সেটা জানতে ‘ট্রাস্ট’-কে চিঠি দিয়েছেন বলে খবর। দু’জনেই মনে করছেন, চিতাভস্মের বাস্তব সত্যটা হয়তো মন্দির কর্তৃপক্ষের জবাবে মিলতে পারে।
আরও খবর
[embedyt] https://www.youtube.com/watch?v=ZjlO9-0k_DE[/embedyt]


