Misuse of Government Property
Bengal Liberty, Kolkata:
যুব সমাজের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা বলেই সরকারি প্রকল্প চালু হয়। কিন্তু সেই প্রকল্পকে ঘিরেই যদি নেশা সংস্কৃতির ইঙ্গিত উঠে আসে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে শাসক দলের ময়নাগুড়িতে তৃণমূল যুবনেতার বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। যদিও ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবুও তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
কি রয়েছে সেই ভিডিওতে? Moynaguri TMC Leader Video
ময়নাগুড়ির টাউন ব্লক তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ সেন যুবসাথী প্রকল্পের ভাতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে গুটখা খাওয়ার খরচের সঙ্গে সেটিকে যুক্ত করেন। আর তারই একটা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়ায় এবং এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তিনি বলেন “যুব সমাজের ভোট আমাদের একটু বিপক্ষে ছিল। যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে দিদি বড় বার্তা দিয়ে দিলেন। সেই ফসল আমাদের ঘরে তুলতে হবে। আজকাল যুব সমাজের বড় অংশ গুটখা, পান খায়। তাঁদের বলতে হবে পান-গুটখা খাবার জন্য যদি এক হাজার টাকা খরচ হয়, সেই টাকা দিদিই দেবেন।’

শাসক দল অস্বস্তিতে Moynaguri TMC Leader Video
মন্তব্যের ফলে শাসকদল অস্বস্তিতে পড়ে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। সরকারি প্রকল্পের উদ্দেশ্য যেখানে কর্মসংস্থান ও সহায়তা দেওয়া, সেখানে নেশাজাতীয় পণ্যের প্রসঙ্গ আসা একটি লজ্জাজনক বিষয় বলে মনে করছেন বিশিষ্ট মহল।

স্বাস্থ্য বনাম রাজনীতি Moynaguri TMC Leader Video
দেশজুড়ে যখন তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর দিক নিয়ে সচেতনতা চালানো হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকও এই ধরনের পণ্যের বিক্রি ও ব্যবহার নিয়ে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছে। সেখানে শাসকদলের এক নেতৃত্ব এরকম মন্তব্য করছে, এটা কি নিতান্তই একটি বক্তব্য নাকি পরোক্ষে নেশাজাত দ্রব্য ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতা দাবি করেছেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বোলেন “আমি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুগান্তকারী যুবসাথী প্রকল্পের উপকারিতার কথা তুলেছিলাম। কাউকে গুটখা খেতে বলিনি। বিজেপির ‘গুটখাখোর’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেছি, বিজেপি বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে তাঁদের কাছে পালটা যুবসাথী প্রকল্পের কথা তুলে ধরতে হবে। যাতে বিজেপি নেতারাও মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকল্পের ব্যাপারে বুঝতে পারেন।”
বিরোধীদের নিশানা Moynaguri TMC Leader Video
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য যুব সমাজের জন্য ক্ষতিকর বার্তা বহন করে। ওই ঘটনায় বিজেপির জেলা সহ সভাপতি চঞ্চল সরকার বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী পাড়ায় পাড়ায় মদের লাইসেন্স দিয়ে যুব সমাজকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতা যুব সমাজকে গুটখা খাওয়ার উৎসাহ দিচ্ছে।’ অন্যদিকে, সিপিআইএম জেলা কমিটির সদস্য জ্যোতিপ্রকাশ ঘোষের অভিযোগ, কর্মসংস্থান ভুলিয়ে যুব সমাজকে নেশায় ডুবিয়ে রাখাই তৃণমূলের লক্ষ্য।
ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে দোষারোপের পালা। সামনে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় এই ইস্যু আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
