Manas Bhunia
Bengal Liberty: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা মানস ভুঁইয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন (Manas Bhunia)। শনিবার দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে বার্তা পাঠিয়ে নিজের পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং সবং এলাকার সঙ্গে গভীর সম্পর্কের কারণে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।এ বারের নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী তথা একদা সতীর্থ অমল পন্ডার কাছে পরাজিত হন । তারপর রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন মানস। তখনই তাঁর বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূলের একাংশ নেতারা । আর এ বার জল্পনায় ইতি টেনে তৃণমূল ছাড়লেন মানস ।

দীর্ঘ সময়ের বিধায়ক মানস ভুঁইয়া (Manas Bhunia)
রাজনীতির ময়দানে মানস ভুঁইয়ার পথচলা দীর্ঘদিনের। ১৯৭০ সাল থেকে তিনি কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরপর কয়েক দশক কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিতি গড়ে তোলেন। ১৯৮২, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৬, ২০১১ এবং ২০২১ সালে সবং বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মোট সাতবার বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। সবং অঞ্চলে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এলাকার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান (Manas Bhunia)
২০১৬ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। দলবদলের পর দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে জায়গা করে নেন। ২০১৭ সালে তৃণমূলের মনোনয়নে রাজ্যসভার সাংসদ হন। ২০২১ সালের নির্বাচনে জিতে রাজ্য সরকারের জলসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলান। এর আগে কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেও তিনি রাজ্যের মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

মানস ভুঁইয়ার দলত্যাগের কারণ (Manas Bhunia)
দলত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মানস ভুঁইয়া জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে তাঁর পক্ষে কাজ করা আর সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনীতি এবং সমাজসেবা তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন না। আগামী দিনে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মানস ভুঁইয়ার পদত্যাগের পর রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি কি অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন, নাকি নতুন কোনও রাজনৈতিক উদ্যোগের পথে হাঁটবেন—তা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি তিনি।
সবং সহ রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের নজর এখন মানস ভুঁইয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক প্রভাবের কারণে আগামী দিনে তাঁর সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


