Bengal Liberty Desk, ২০ ফেব্রুয়ারি, কলকাতা: বাংলা সাহিত্যজগতে একটি যুগের অবসান! ৯২ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। সাধারণ মানুষের কাছে যিনি পরিচিত ছিলেন ‘শংকর’ (Shankar) ছদ্মনামে। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে সাহিত্যজগতে। বর্ষীয়ান এই সাহিত্যিকের মৃত্যুর খবরে শোকপ্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও নিজের এক্স হ্যান্ডলে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং শংকরের সাহিত্যকীর্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন (Manishankar Mukhopadhyay Passes Away)।
শারীরিক অবস্থা ও মৃত্যুর পটভূমি (Manishankar Mukhopadhyay Passes Away)

বর্ষীয়ান সাহিত্যিক দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। জানা গিয়েছে ডিসেম্বর মাসে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হন এবং অস্ত্রোপচার হয় সাহিত্যিকের। কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরে আসেন। তবে আবারও ফেব্রুয়ারির শুরুতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। ব্রেন টিউমারে ভুগছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়ি ফেরা হল না আর, আজ, শুক্রবার মৃত্যু হয় তাঁর। চিকিৎসক ডা. সুদীপ্ত মিত্র জানিয়েছেন, “সপ্তাহ দুয়েক আগে ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ৪ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। এত দিন সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে সেখানেই জীবনাবসান ঘটে সাহিত্যিকের (Manishankar Mukhopadhyay Passes Away)।”
সাহিত্যিক শংকরের প্রয়াণে শোক প্রকাশ সুকান্ত মজুমদারের (Manishankar Mukhopadhyay Passes Away)
বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় (শংকর)-এর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।
আরও খবর
তাঁর সৃষ্ট অসামান্য সাহিত্যকীর্তি – চৌরঙ্গী, জনঅরণ্য, সীমাবদ্ধ প্রভৃতি বাংলার পাঠকসমাজকে সমৃদ্ধ করেছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর সাহিত্যকর্ম আমাদের সাংস্কৃতিক… pic.twitter.com/Q074no14he
— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) February 20, 2026

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় (শংকর)-এর প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। নিজের এক্স হ্যান্ডলে সাহিত্যিকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি।
সুকান্ত মজুমদার লেখেন, শংকরের সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যকে অসামান্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর ‘চৌরঙ্গী’, ‘জনঅরণ্য’, ‘সীমাবদ্ধ’-এর মতো উপন্যাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাঠকদের অনুপ্রাণিত করেছে এবং বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে (Manishankar Mukhopadhyay Passes Away)।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শংকরের সাহিত্যকর্ম বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে। বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকস্তব্ধ পরিবার ও অসংখ্য গুণমুগ্ধ পাঠকের প্রতি সমবেদনা জানান সুকান্ত মজুমদার।
সাহিত্যিক মণিশংকরের জীবন ও কীর্তি (Manishankar Mukhopadhyay Passes Away)
১৯৩৩ সালের ৭ ডিসেম্বর যশোহর, বর্তমান বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন সাহিত্যিক মণিশংকর। আইনজীবী পিতা হরিপদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন এবং হাওড়ায় বসবাস শুরু করেন। এখানেই শংকরের শৈশব, শিক্ষাজীবন এবং সাহিত্যচর্চার সূচনা (Manishankar Mukhopadhyay Passes Away)।
আরও পড়ুন (Manishankar Mukhopadhyay Passes Away)
Sidharth Malhotra’s Father Demise: পিতৃহারা সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, না ফেরার দেশে অভিনেতার প্রিয় ‘ক্যাপ্টেন’ বাবা
বারামতীতে অজিত পাওয়ারের শেষযাত্রা! (Ajit Pawar) জনতার রুদ্ধ কণ্ঠে, চোখের জলে শেষ বিদায় ‘অজিত দাদা’কে, উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৯৫৫ সালে ‘কত অজানারে’ দিয়ে সাহিত্যজগতে পা রাখেন। এরপর জন্ম হয় বহু কালজয়ী সৃষ্টি যেমন ‘চৌরঙ্গী’, ‘সীমাবদ্ধ’, ‘জন অরণ্য’, ‘চরণ ছুঁয়ে যাই’, ‘অচেনা অজানা বিবেকানন্দ’। তাঁর ‘চৌরঙ্গী’ উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৬৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রে উত্তম কুমারের অভিনয় এই সৃষ্টিকে আরও শক্তিশালী করেছে। সত্যজিৎ রায় তাঁর ‘সীমাবদ্ধ’ ও ‘জন অরণ্য’-এর চিত্ররূপ তৈরি করেছিলেন। শংকরের সাহিত্য সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রামের নানা দিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, এবং অন্তর্দৃষ্টি-নির্ভর চরিত্রচিত্র উপস্থাপন করে। তাঁর লেখা বই ও গবেষণাপত্র বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ (Manishankar Mukhopadhyay Passes Away)।
মণিশংকরের প্রয়াণ শুধু একটি ব্যক্তির শেষ নয়, বরং বাংলা সাহিত্যের এক যুগের সমাপ্তি। তাঁর লেখা চরিত্র, কাহিনী ও সামাজিক চিত্র বাংলা পাঠকের মনে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছে। তাঁর সাহিত্যকীর্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং বাংলা সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অমলিন পরিচয় রেখে যাবে (Manishankar Mukhopadhyay Passes Away)।


