Mukul Roy death reaction
Bengal Liberty Desk :
সোমবার ছিল প্রয়াত কিংবদন্তি জাদুকর প্রতুল চন্দ্র সরকার জন্মদিন(Mukul Roy death reaction)। নাহ, এমন কৃতবিদ্য বঙ্গ সন্তানের আবির্ভাব দিবস মনে রাখে না বাঙালিরা। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গে এমন একজন ক্ষণজন্মা প্রতিভা আছেন যিনি এইসব দায় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন একক দায়িত্বে। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল সকাল প্রয়াত যাদুকরকে নিজের এক্স হ্যান্ডেলের পোস্ট করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু গোটা বঙ্গ সমাজ সেই সময় অপেক্ষায় বসেছিল, একদা মমতার ছায়া সঙ্গী মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবরে কখন শোকবার্তা দেবেন দিদি? কিন্তু অনেক অপেক্ষার পর যখন সেই শোকবার্তা প্রকাশ্যে এল, তখন তা নিয়ে আইপ্যাক-সহ তৃণমূলীদের জয়ধ্বনি দেওয়া শুরু হল, দিদির নামে!

মুকুল রায় মারা যান রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ। পরিবারের তরফ থেকে একে একে মুকুলের পরিচিতি হলে খবর দেওয়া শুরু হয়। প্রাক্তন রেলমন্ত্রী প্রয়াণের খবর দেওয়া হয় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। মুকুলের এক ঘনিষ্ঠ গভীর রাতে ফোন করে ঘুম থেকে তুলে শুভেন্দুকে সেই খবর দেন। প্রায় একই সময় খবর পৌঁছে ছিল মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও।
এরপর সকাল হতেই একে একে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে মুকুলের মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বেশকিছু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। বাংলার রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছিল, ২০১১ সালে বামফ্রন্টকে সরিয়ে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসাতে যেহেতু মুকুল বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাই মাঝের তিক্ততার সময় ভুলে গিয়ে অতি দ্রুতই নিজের শোকবার্তা দেবেন মমতা। এমনকি বিধানসভায় আসবেন, একদা তাঁর দলের দুই নম্বর মুকুল রায়কে শ্রদ্ধা জানাতে।

বাস্তব বড় নির্মম! তাই অনেক বেলায় দীর্ঘ একটি শোকবার্তা প্রকাশ করেন মমতা। কিন্তু তাঁর প্রায় ঘন্টা দুয়েক আগে ১৯৭১ সালে প্রয়াত জাদুঘর পিসি সরকারের জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তাটি নজরে এসে গিয়েছে মুকুল অনুগামীদের। সেই দিয়ে সমালোচনাও শুরু হয় গোপনে। এমনকি তৃণমূলের অনেক নেতাও, মুখ্যমন্ত্রী এহেন আচরণে বিস্মিত! কিন্তু সামনেই নির্বাচন, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করলে দলের রোষানলে পড়ে বিধানসভায় টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা হাতছাড়া হতে পারে। তাই ‘কটু-সত্য’ কেউ বলতে চায়নি। বরং মুকুলের মৃত্যুর প্রতি মমতার এমন ‘তুচ্ছতাচ্ছিল্য’ ঢাকতে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম আক্রমণ করেন বিজেপিকে।
তাঁর দাবি, “গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে মুকুল রায়কে বিজেপিতে যোগদান করানো হয়েছিল। যেই কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, আজ মুকুলের মৃত্যুতে বিজেপি জবাব দিক।” তবে তৃণমূলের একাংশ আবার জবাবে বলেছেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী কাঁচরাপাড়ায় পাঠিয়ে মুকুলের শেষকৃত্যে যোগদান করতে বলেছেন। দিদির পোস্ট বা মুকুলকে মাল্যদান করতে না আসা নিয়ে অযথা জল ঘোলা করা উচিত নয়, কারণ দিদি দিদিই। তাঁকে কত কী সামলাতে হয়, কত কী মনে রাখতে হয়।”

যদিও মুকুল প্রয়াণের দিনে বিজেপি ফিরহাদ হাকিমের আক্রমণের জবাব দেয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে একাংশ বলছেন, আসলে মুকুলের(Mukul Roy death reaction) মতো নেতারা মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর পর থেকেই রাজ্যবাসীকে একের পর এক ম্যাজিক দেখিয়ে আসছেন মমতা। তাই মুকুলের প্রয়াণের দিনও অভিষেকের পিসিমণি একজন প্রয়াত জাদুকরকে প্রথম স্মরণ করবেন এটাই স্বাভাবিক। কারণ পিসিমণির কাছে সরকার আগে, মুকুল পরে। যদিও, তৃণমূলের এক প্রবীণ মুকুল ঘনিষ্ঠ নেতা বলছেন, “এমন সমালোচনায় মমতার কিছু এসে যায় না, তেমনই কিছু যায় আসে না পঞ্চত্বে বিলীন হয়ে যাওয়া মুকুলেরও।”

