Keir Starmer on Iran-Israel
Bengal Liberty Desk, ২ মার্চ: পশ্চিম এশিয়ার আকাশে গোলা বারুদের গন্ধ ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে। ঠিক সেই সময়েই কূটনৈতিক ভারসাম্যের বার্তা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। ইরানের উপর সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যখন জল্পনা বাড়ছে, তখন লন্ডনের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানালেন, এই অভিযানে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না ইউনাইটেড কিনডম (Keir Starmer on Iran-Israel)।
যুদ্ধের মাঝেও দূরত্ব রাখার কৌশল (Keir Starmer on Iran-Israel)
My update on the situation in the Middle East. pic.twitter.com/DvsOVcTDMy
— Keir Starmer (@Keir_Starmer) March 1, 2026
স্টার্মারের বক্তব্যে পরিষ্কার, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও ব্রিটেন আপাতত সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে চাইছে না। তাঁর দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে United States কিছু ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করছে ঠিকই, কিন্তু সেটি সীমিত এবং শুধুমাত্র আত্মরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে। তাঁর কথায়, “আমরা এই হামলায় যোগ দিচ্ছি না। তবে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চালিয়ে যাব।” এই অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়েই অতীতের এক বিতর্কিত অধ্যায় টেনে আনেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সে সময় টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে ব্রিটেন আমেরিকার সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছিল সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সেই সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনার মুখে পড়েছিল, যার প্রভাব ব্রিটিশ রাজনীতিতেও পড়েছিল গভীরভাবে।
সংঘাতের বিস্তার (Keir Starmer on Iran-Israel)

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যখন ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার পর পাল্টা প্রত্যাঘাত শুরু করে তেহরান। ইরানের হামলার লক্ষ্য শুধু ইজরায়েল নয়, পশ্চিম এশিয়ায় থাকা মার্কিন ও মিত্র ঘাঁটিগুলিও। এই উত্তেজনার আবহেই লন্ডনের বক্তব্যকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
স্টার্মার জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার আকাশে বর্তমানে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে, তবে সেগুলিও প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকার জন্য। তাঁর দাবি, ইরানের হামলার আশঙ্কা ঠেকাতে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই উত্তেজনার মাঝেও ব্রিটেনের অবস্থান আপাতত কূটনীতির দিকেই ঝুঁকে আছে। স্টার্মারের স্পষ্ট বার্তা, সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজাই এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে জরুরি।
আরও পড়ুন (Keir Starmer on Iran-Israel)-
Indian Muslims on Khamenei: ইরানে নারীর রক্তে লেখা প্রতিবাদ, আর ভারতে খামেনেইকে ঘিরে শোক, ইরানের মৌলবাদকে সমর্থন করছে ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়?
Khamenei Death: ভারতীয় মুসলমান নারীরা কি পরাধীনতার বিশ্বাসী?

খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেও থামেনি আগুন (Keir Starmer on Iran-Israel)
পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে যখন হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়। সাধারণত এমন বড় ঘটনার পরে সংঘাত কিছুটা থামার আশা করা হয়, কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। সংঘর্ষ আরও ছড়িয়ে পড়েছে গোটা অঞ্চলে।
স্টার্মারের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি এবং নাগরিকরাও এখন ঝুঁকির মুখে। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে অন্তত ২ লক্ষ ব্রিটিশ নাগরিক অবস্থান করছেন। ইতিমধ্যেই হোটেল, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ তুলেছে লন্ডন (Keir Starmer on Iran-Israel)।

