Indian Muslims on Khamenei
দীপশিখা মন্ডল.Bengal Liberty:
ইরানে (Indian Muslims on Khamenei) দীর্ঘদিন ধরে দমন-পীড়ন, কড়া ধর্মীয় আইন এবং রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ জমে ছিল, তা বিস্ফোরিত হয়েছিল নারীদের নেতৃত্বে। আর সেই শাসনের প্রতীক ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। আজ তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য সামনে এসেছে। ইরানের বহু নারী যেখানে স্বস্তি বা প্রতিবাদের ভাষা খুঁজছেন, সেখানে ভারতের কিছু সংখ্যালঘু মানুষের মধ্যে শোক ও সমর্থনের সুর। এই দ্বন্দ্বই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে- আসলে এ কোন মূল্যবোধকে সমর্থন করছে ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশ?

ইরানে হিজাব আন্দোলন (Indian Muslims on Khamenei)
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তরুণ কুর্দি নারী মাহসা আমিনির মৃত্যু ইরানকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। অভিযোগ, হিজাব না পরার কারণে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। কয়েক দিনের মধ্যেই হাসপাতালের বিছানায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনা মুহূর্তে রূপ নেয় বিদ্রোহে। “Woman, Life, Freedom”-এই স্লোগান নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন হাজার হাজার নারী। শুধু হিজাব নয়, গোটা শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। ইরানের নারীরা যে সাহস দেখিয়েছেন, চুল কেটে, হিজাব পুড়িয়ে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখায়।

দমন-পীড়নের ভয়াবহতার ইতিহাস ইরানে (Indian Muslims on Khamenei)
বিক্ষোভের জবাব আসে কঠোর শক্তি দিয়ে। আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। হাজার হাজার মানুষ গ্রেফতার হয়। একাধিক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়। ইরানের অন্তত ৮০টির বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলন দেখিয়ে দেয়, পরবর্তীতে এই আন্দোলন শুধু পোশাকের প্রশ্ন ছিল না, এটি ছিল স্বাধীনতা বনাম নিয়ন্ত্রণের লড়াই।
শুরুটা হিজাব আইন নিয়ে হলেও দ্রুত বিষয়টি বড় আকার নেয়। মানুষ বলতে শুরু করে, কেন রাষ্ট্র ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করবে? কেন নারীর শরীর ও স্বাধীনতার উপর ধর্মীয় পুলিশি নজরদারি থাকবে? এই প্রশ্নগুলোই খামেনেইয়ের শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে আজ সেই নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে কার্যত খাঁচা থেকে মুক্ত পাখির ন্যায় আনন্দ উদযাপন করছেন ইরানের মহিলারা।

ভারতের কীসের শোক? (Indian Muslims on Khamenei)
এদিকে ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন, প্রতিবাদ মিছিলও হয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ বক্তব্য রেখেছেন হিজাবের পক্ষে। বিজেপি নেত্রী রেবিকা মোল্লা বলছেন, ” হিজাবের বিরুদ্ধে না, তবে হিজাবকে হিজাবের মতো ব্যবহার করা উচিত।” পাশাপাশি তিনি হিজাব পরাকেও সমর্থনই করলেন। এবং হিজাবের মাহাত্ম সম্পর্কেও কথা শোনা গেল তাঁর গলায়। ডঃ নজরুল ইসলাম, তিনিও খামেনেইয়ের বিপরীতে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলেন না। এখানেই প্রশ্ন ইরানের যে নেতা তাঁর দেশের মহিলাদের একরকম পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢাকা দিয়ে রাখার নিদান দিয়েছিলেন সেই নেতার মৃত্যুতেই ভারতের মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষদের একাংশের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহত খামেনেই। আমেরিকার আকাশে কালো মেঘ। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত?@bengalliberty @realDonaldTrump @netanyahu #bengalliberty #UnitedStates #Israel #Iran #IranWar #Khamenei #IranRevoIution2026 #WorldWar3 #IranMassacre #SupremeLeader pic.twitter.com/lMVISUDyx2
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 1, 2026
কিন্তু এখানেই বিতর্ক তীব্র। কারণ প্রশ্নটা স্পষ্ট,
যে শাসনের বিরুদ্ধে ইরানের নারীরা জীবন বাজি রেখে লড়েছেন, সেই শাসনের প্রতীক একজন নেতার মৃত্যুতে তাঁর নীতিকে সমর্থন করা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত? আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি নৈতিক। ইরানের নারীরা যে সাহস দেখিয়েছেন, চুল কেটে, হিজাব পুড়িয়ে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে-তা ছিল স্বাধীনতার দাবি। সেখানে যদি কেউ সেই দমনমূলক ব্যবস্থার প্রতীককে সমর্থন করে, তবে সেটি শুধু মতামত নয়, সেটি এক ধরনের নীরব সমর্থনও। এখানেই প্রশ্ন তাহলে কি নীরবে ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ তাঁর মৌলবাদের নীতিকে সমর্থন করছে? আজকের ভারতীয়দের বিক্ষোভে অবশ্য উত্তরটা স্পষ্ট।
