Moonlight Tea Dooars
Bengal liberty desk, ৩ মার্চ :
আকাশে দোল পূর্ণিমার মায়াবী চাঁদ, আর সেই রুপোলি আলোয় স্নান করছে ডুয়ার্সের সবুজ চা বাগান। এই মনোরম পরিবেশেই চলল এক বিশেষ যজ্ঞ— ‘মুনলাইট প্লাকিং’ (Moonlight Plucking)। আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবরি চা বাগানে পূর্ণিমার রাতে মশাল জ্বালিয়ে এবং ধামসা-মাদলের বোলে উৎসবের আমেজে তোলা হল চা পাতা, যা বিশ্ববাজারে পরিচিত ‘মুনলাইট টি’ নামে।

কী এই ‘মুনলাইট টি’? Moonlight Tea Dooars
নামের মতোই এই চায়ের মাহাত্ম্য অনন্য। সাধারণ চায়ের মতো প্রখর সূর্যালোক নয়, বরং পূর্ণিমার স্নিগ্ধ আলোয় যখন দুটি পাতা একটি কুঁড়ি তোলা হয়, তখন তাতে এক বিশেষ প্রাকৃতিক সুগন্ধ বা ‘অ্যারোমা’ তৈরি হয়। চা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে তোলা এই কচি পাতাগুলোর গুণগত মান ও স্বাদ সাধারণ চায়ের তুলনায় অনেক বেশি হয়। এটি মূলত এক ধরনের উচ্চমানের সাদা চা (White Tea)।

মাঝেরডাবরি বাগানের বিশেষ উদ্যোগ Moonlight Tea Dooars
ডুয়ার্সের মাঝেরডাবরি চা বাগান ইতিমধ্যেই ব্লু টি, হোয়াইট টি এবং জাসমিন টি তৈরি করে নজর কেড়েছে। বাগানের ম্যানেজার চিন্ময় ধর জানান, “পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলো পড়লে চায়ের গুণগত মান অনেকটা বেড়ে যায়। এই চায়ের বিশ্ববাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।”
কখন তোলা হয় Moonlight Tea Dooars
আগে বছরে তিনবার (দোল পূর্ণিমা, বুদ্ধ পূর্ণিমা ও কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমা) এই পাতা তোলা হতো। পরে, বছরের প্রতি পূর্ণিমার রাতেই এই বিশেষ চা পাতা তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চা পাতা তোলার সময় বাগানে মশাল জ্বালিয়ে গান গেয়ে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করা হয়, যা দেখতে ভিড় জমান পর্যটকরাও। চাঁদনি রাতে চা পাতা তোলার এই বিরল দৃশ্য ডুয়ার্সের পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ডুয়ার্সের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের কাছে এই ‘মুনলাইট প্লাকিং’ এখন এক বিশেষ আকর্ষণ। প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর চা – শিল্পের এই মেলবন্ধন, আলিপুরদুয়ারের চা শিল্পে এক নতুন উদ্ভাবন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
একঝলকে মুনলাইট টি Moonlight Tea Dooars
স্থান: মাঝেরডাবরি চা বাগান, ডুয়ার্স।
প্রক্রিয়া: পূর্ণিমার রাতে দুটি পাতা ,একটি কুঁড়ি সংগ্রহ।
বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত সুগন্ধি, প্রাকৃতিক অ্যারোমা এবং অনন্য স্বাদ।
বাজার: প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির চা হিসেবে দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা।


