Pabitra Kar
Bengal Liberty, ১৬ এপ্রিল :
ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে নির্বাচনী লড়াই জমে উঠেছে। তারই মধ্যে বড়সড় স্বস্তি পেলেন এই হাই ভোল্টেজ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর (Pabitra Kar)। ছিনতাই ও হুমকির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ, এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আজ, বৃহস্পতিবার বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের এই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের ফলে ভোটের ঠিক আগে বড় ধাক্কা এড়াতে সক্ষম হলেন পবিত্র কর। আদালতের এই নির্দেশে নন্দীগ্রামে শাসক শিবিরে স্বস্তির হাওয়া বইছে (Pabitra Kar)।

ঘটনার প্রেক্ষাপট (Pabitra Kar)
গত ৭ এপ্রিল নন্দীগ্রামের কৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দা বুদ্ধদেব গিরি একটি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ৬ এপ্রিল বাড়ির সামনে বসে থাকার সময় তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর ও তাঁর অনুগামীরা তাঁকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনার ভিত্তিতে নন্দীগ্রাম থানায় পবিত্র কর সহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই আইনি সুরক্ষা চেয়ে গত ১০ এপ্রিল পবিত্র কর কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর আবেদন ছিল, এই মামলায় এফআইআর খারিজ করা হোক এবং তাঁকে গ্রেফতারির মতো কঠোর পদক্ষেপ থেকে রক্ষা করা হোক। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে অজয়কুমার মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দেন, আপাতত পবিত্র করের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে না। তবে একইসঙ্গে আদালত জানিয়ে দেয়, তদন্ত প্রক্রিয়া স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে এবং পুলিশ তদন্তে কোনও বাধা থাকবে না।

হাই ভোল্টেজ নন্দীগ্রাম (Pabitra Kar)
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন পবিত্র কর। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে এবং রাজনৈতিক মোহভঙ্গ হয় তাঁর। শেষমেশ গত ১৭ মার্চ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তিনি ফের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা’র কৌশলেই একদা শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ পবিত্র করকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটিতে যখন লড়াই তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় মামলার জটিলতা থেকে প্রার্থীর এই সাময়িক স্বস্তি নির্বাচনী প্রচারে নতুন গতি আনতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
