CAPF Chiefs
Bengal Liberty, ২০ এপ্রিল :
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও ভয়মুক্ত করতে কলকাতায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারলেন দেশের সমস্ত প্রধান আধাসেনা বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল (DG) (CAPF Chiefs)। উপস্থিত ছিলেন সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবির শীর্ষ কর্তারা। সূত্রের খবর, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ও শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো চূড়ান্ত করা। ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন, সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা, সংবেদনশীল বুথ চিহ্নিতকরণ, নজরদারি ব্যবস্থা এবং মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে (CAPF Chiefs)।

নজিরবিহীন বৈঠক (CAPF Chiefs)
রাজ্যে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে এই ধরনের ডিজি-স্তরের সম্মিলিত বৈঠক সাম্প্রতিক অতীতে কার্যত নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ। অনেকেরই বক্তব্য, ভোট প্রস্তুতি নিয়ে শেষ কবে সব আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের এমন একসঙ্গে বৈঠক হয়েছে, তা মনে করা কঠিন। শনিবারের এই বৈঠকের পর সল্টলেকে সিআরপিএফ দফতরে একটি যৌথ নেতৃত্ব সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রের খবর, সেখানে আধাসেনা বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদার করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং বাহিনীগুলির মধ্যে সমন্বয় কীভাবে আরও মজবুত করা যায়, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে।

প্রথম দফার ১৫২ আসনে নিরাপত্তা পর্যালোচনা (CAPF Chiefs)
সব আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের বৈঠক ঘিরে রবিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি প্রকাশ করেছে সিআইএসএফ। সেখানে জানানো হয়েছে, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর, সুসংহত ও শক্তিশালী নিরাপত্তা পরিকাঠামো নিশ্চিত করা। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মূল বৈঠকের পরপরই অনুষ্ঠিত হয় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় বৈঠক, যেখানে আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা, নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত সমন্বয়ক এবং পর্যবেক্ষকরাও। এই বৈঠকে বিশেষভাবে প্রথম দফার ১৫২টি আসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয় ওই বৈঠকে।

কুইক রেসপন্স টিম (CAPF Chiefs)
সিআইএসএফ-এর বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, বৈঠকে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (QRT) মোতায়েন, সম্ভাব্য নাশকতা রুখতে তল্লাশি ও প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এবং ভোটের দিন দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কৌশল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করাই সব আধাসেনা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। ভোটাররা যাতে কোনও ভয় বা চাপ ছাড়াই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতেই জোর দেওয়া হচ্ছে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর। সিআইএসএফ-এর ডিজি প্রবীর রঞ্জন জানিয়েছেন, শুধু নিরাপত্তা নয়, ভোটের পবিত্রতা রক্ষা করাও বাহিনীর অন্যতম অগ্রাধিকার।
