Post-election violence
Bengal Liberty, ৩০ এপ্রিল:
সোনার বাংলায় আইনের শাসন নয়, চলছে ‘জঙ্গলরাজ’। ভোট মিটতেই আবারও নিজের হিংস্র রূপ প্রকাশ করল তৃণমূলের হার্মাদরা Post-election violence। ফের একবার তপ্ত বেহালা। এবার নিশানায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) একনিষ্ঠ কর্মী। বেহালার সরশুনায় আরএসএস কর্মী অভিজিৎ ব্রহ্মর বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর এবং সপরিবারে মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পরিবারের সদস্যরা যখন বিচারের অপেক্ষায়, তখন আক্রান্ত অভিজিৎকেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ।

জয় বাংলা’ না বলায় শুরু বচসা Post-election violence
অভিজিৎ ব্রহ্মর ভাইয়ের জানান ঘটনার সূত্রপাত গতকাল রাতে ভোট মিটিয়ে বুথ থেকে ফেরার পথে। অভিযোগ, মাঝরাস্তায় প্রায় ১০ জন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী তার দাদা অভিজিৎকে ঘিরে ধরে। তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার জন্য। অভিজিৎ সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় হাতাহাতি। কোনোক্রমে সেখান থেকে রেহাই পেয়ে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।
বাড়িতে সশস্ত্র হামলা ও ভাঙচুর
বাড়িতে ঢোকার কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। অভিযোগ, ১০০ জনেরও বেশি তৃণমূল আশ্রিত ‘গুন্ডা’ রড, লাঠি এবং ধারালো ছুরি নিয়ে অভিজিতের বাড়িতে চড়াও হয়। দুষ্কৃতীরা বাড়ির জানালা থেকে শুরু করে আসবাবপত্র সবকিছু গুঁড়িয়ে দেয়। সাথে অভিজিৎ এর পেটে ছুরি চালানো হয়। এমন ঘাড়ে রড দিয়ে মারা হয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরেই আরএসএস করার অপরাধে তাঁদের ওপর রাজনৈতিক অত্যাচার চালানো হচ্ছিল তৃণমূল আর পক্ষ থেকে।
বিচার না পেয়ে পুলিশের জালে আক্রান্তই
ঘটনায় সবথেকে বড় প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। বাড়ির ভেতর ঢুকে মারধর এবং ভাঙচুর চালানোর পরও পুলিশ দুষ্কৃতীদের ধরার পরিবর্তে আক্রান্ত অভিজিৎ ব্রহ্মকেই গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পুলিশ প্রশাসন পুরোপুরি শাসকদলের দাসে পরিণত হয়েছে। অপরাধীরা প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর যাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদেরকেই শ্রীঘরে পাঠানো হচ্ছে।
বাংলার মাটিতে জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর এই লাগাতার আক্রমণের ফল আসন্ন সময়ে শাসকদলকে ভুগতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। আপাতত বেহালার ওই এলাকায় চাপা উত্তেজনা থাকলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে হাজারো প্রশ্ন।
