Prasanta Barman Arrest
বেঙ্গল লিবার্টি, কলকাতা:
নিউটাউনে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন রায়গঞ্জের অপসারিত তথা পলাতক বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকোপার্ক এলাকায় এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারির ঘটনাটি ঘটেছে (Prasanta Barman Arrest)। সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকোপার্কের কাছে মদ্যপ অবস্থায় অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। সেই সময় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তিনি সরাসরি এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারেন। দুর্ঘটনার পরেই ক্ষিপ্ত জনতা গাড়িটিকে ঘিরে ধরে এবং খবর দেওয়া হয় নিউটাউন থানায়। পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পরতে হল দীর্ঘদিনের পলাতক বিধায়ক প্রশান্ত বর্মণ।

পূর্বেও খুনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল আত্মসমর্পনের। কিন্তু সেই নির্দেশ উড়িয়ে মাসের পর মাস ধরে পলাতক ছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। গতকাল, সোমবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে ধাক্কা মারে ইকোপার্ক এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্ত Prasanta Barman Arrest
রায়গঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণ গত অক্টোবর মাসে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন। পুলিশের কাছে তিনি জামিনের মামলা করেছিলেন কিন্তু সেই মামলা খারিজ হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের তরফে প্রশান্ত বর্মণকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালতের সেই কড়া নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গা ঢাকা দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন এই সরকারি আধিকারিক।

কার প্রশ্রয়ে এতদিন গা ঢাকা দিতেন
অবশেষে গতকাল রাতে নিউটাউন থানার পুলিশ গ্রেফতার করল এই অপরাধীকে। অপরাধ করার পরেও পুলিশকে থ্রেট দিয়েছেন তিনি। মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড এবং সুপ্রিম কোর্টের খাঁড়া মাথায় থাকা সত্ত্বেও একজন অপসারিত বিডিও কীভাবে মাসের পর মাস পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়ালেন? কার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রশ্রয়ে তিনি এতদিন কলকাতায় সেফ শেল্টার বা নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছিলেন? এই নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। তবে গা ঢাকা দিলেও শেষ রক্ষা হল না অপরাধীর। সোমবার রাতে, ইকোপার্ক এলাকা থেকে আটক করেন পুলিশ।

