Bengal Liberty
চলতি ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে(France Football Coach) হেরে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেছে শক্তিশালী ফ্রান্স। এরপরই কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন বিশ্বকাপজয়ী কোচ ও প্রাক্তন ফুটবলার ডিডিয়ার ডেসচ্যাম্পস।
গত তিনটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার দায় স্বীকার করেই ইস্তফা দেন তিনি। এর মাধ্যমে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা ডেসচ্যাম্পস যুগের অবসান ঘটল।

সোনালী যুগের শুরু(France Football Coach)
২০১৮ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফ্রান্সকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলেন ডিডিয়ার ডেসচ্যাম্পস। সেই জয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে খেলোয়াড় ও কোচ – দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জয়ের বিরল নজির গড়েন। এর আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন ব্রাজিলের মারিও জাগাল্লো এবং জার্মানির ফ্রান্ৎস বেকেনবাউয়ার। ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে ডেসচ্যাম্পসের অবদান তাই নিঃসন্দেহে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

হতাশার সূচনা(France Football Coach)
তবে সাফল্যের পর ধীরে ধীরে হতাশাও গ্রাস করতে শুরু করে ফরাসি শিবিরকে।
২০২২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর টাই-ব্রেকারে হারতে হয় ফ্রান্সকে। এরপর ইউরোপীয় ফুটবলেও ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার মুখ দেখতে হয় লে ব্লুসকে।
বড় কাঁটা স্পেন(France Football Coach)
ইউরো ২০২৪-এর সেমি-ফাইনালে শুরুতে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে স্পেনের কাছে পরাজিত হয় কিলিয়ান এমবাপেদের দল। তারপর উয়েফা নেশন্স লিগের সেমি-ফাইনালেও আবার স্পেনের কাছেই হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়।সেই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের লড়াই শেষে টাই-ব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্পেন। আর এবার ফিফা বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালেও স্পেনের বিরুদ্ধে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় ফ্রান্স।অর্থাৎ টানা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্পেনের কাছেই হার মানতে হয়েছে ডিডিয়ার ডেসচ্যাম্পসের দলকে। এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরই নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

কোচের ভূমিকায় জিদান?(France Football Coach)
ডিডিয়ার ডেসচ্যাম্পসের বিদায়ের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ফ্রান্সের পরবর্তী কোচ কে? ফরাসি সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে ইউরোপের একাধিক ক্রীড়া বিশ্লেষকের মতে, এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আরেক কিংবদন্তি বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার জিনেদিন জিদান। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই ট্র্যাজিক নায়ক দীর্ঘদিন ধরেই ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হওয়ার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। তাঁর অসাধারণ কোচিং দক্ষতা ইতিমধ্যেই ক্লাব ফুটবলে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।

রিয়াল মাদ্রিদে জিদান(France Football Coach)
জিনেদিন জিদানের কোচিং ক্যারিয়ার অত্যন্ত সাফল্যমণ্ডিত। তাঁর কোচিং জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রিয়াল মাদ্রিদে।২০১৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদ কাস্তিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। এরপর ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে রাফায়েল বেনিতেজের স্থলাভিষিক্ত হয়ে রিয়াল মাদ্রিদের মূল দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
রিয়াল মাদ্রিদ (প্রথম অধ্যায়: ২০১৬–২০১৮)(France Football Coach)
দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই জিদান রিয়াল মাদ্রিদকে একাদশ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা এনে দেন। এরপর ইতিহাস সৃষ্টি করেন তিনি। বিশ্বের প্রথম কোচ হিসেবে টানা তিনবার (২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮) উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের নজির গড়েন।পাশাপাশি ২০১৭ সালে লা লিগা শিরোপাও জিতে নেয় তাঁর দল। তাঁর অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ মোট ১১টি বড় শিরোপা জেতে। ২০১৮ সালের মে মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের কয়েকদিন পরই তিনি সবাইকে অবাক করে দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
রিয়াল মাদ্রিদ (দ্বিতীয় অধ্যায়: ২০১৯–২০২১)(France Football Coach)
২০১৯ সালের মার্চ মাসে ক্লাবের কঠিন পরিস্থিতিতে আবারও রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয় জিদানকে। দ্বিতীয় মেয়াদেও তিনি নিজের সাফল্যের ধারা বজায় রাখেন। ২০১৯-২০ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদকে লা লিগা শিরোপা এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতান। ২০২১ সালের মে মাসে দ্বিতীয়বারের মতো তিনি রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার ঘোষণা দেন।
জিদানের বৈশিষ্ট্য(France Football Coach)
জিদানের কোচিং দর্শনের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো বড় ম্যাচে দলকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তোলা।খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখা এবং সঠিক সময়ে কৌশলগত পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ হিসেবে পরিচিত। সেই কারণেই ফ্রান্সের সমর্থকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, ডেসচ্যাম্পসের পর জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি জিনেদিন জিদান এমনটাই মত ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের।
জাতীয় দল ও ক্লাবের মধ্যে বড় পার্থক্য(France Football Coach)
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ক্লাব ফুটবলে যে সাফল্য তিনি পেয়েছেন, জাতীয় দলের দায়িত্বেও কি সেই একই সাফল্য অর্জন করতে পারবেন?অতীতে বহু সফল ক্লাব কোচ জাতীয় দলের দায়িত্বে এসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় উদাহরণ কার্লো আনচেলত্তি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগে অসংখ্য সাফল্য, একাধিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং জাতীয় লিগ জয়ের পরও ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তিনি প্রত্যাশিত ফল এনে দিতে পারেননি। নরওয়ের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সেই ম্যাচের পর চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান নেইমার।

তাই এখন ফুটবলপ্রেমীদের একটাই প্রশ্ন—জিনেদিন জিদানের হাত ধরে কি আবারও নতুন যুগের সূচনা হবে ফ্রান্স ফুটবলে? ক্লাব পর্যায়ের অসাধারণ সাফল্য কি জাতীয় দলেও প্রতিফলিত হবে? আবার কি ইউরোপ তথা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে লে ব্লুস? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেবে সময়। তবে ডিডিয়ার ডেসচ্যাম্পসের বিদায়ের পর ফরাসি ফুটবলের নতুন অধ্যায়কে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে জোর চর্চা এবং চুলচেরা বিশ্লেষণ।

