TMC Workers Arrested
নিজস্ব সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর, ২৮ মে :
পঞ্চায়েত সমিতিতে নিজের কথামতো “অনৈতিক কাজ” করাতে না পেরে মহিলা কর্মাধ্যক্ষ ও তাঁর স্বামীর উপর হামলার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন জয়পুর পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির জয়পুর ব্লক সভাপতি প্রশান্ত বসাক (Female TMC Leader Assaults)। বৃহস্পতিবার ধৃতকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ মে জয়পুর পঞ্চায়েত সমিতির দফতরে নিজের দপ্তরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ রমা গাঙ্গুলী। অভিযোগ, সেই সময় সেখানে হাজির হন খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ প্রশান্ত বসাক। রমা গাঙ্গুলীর অভিযোগ, কিছু অনৈতিক প্রশাসনিক কাজে সহযোগিতা করার জন্য তাঁকে চাপ দিতে শুরু করেন প্রশান্ত। তিনি সেই কাজে রাজি না হওয়ায় দু’জনের মধ্যে বচসা বাধে।

চড়-থাপ্পড় ও মারধর Female TMC Leader Assaults
অভিযোগ আরও, সেই সময়ই রমা গাঙ্গুলীকে “দেখে নেওয়ার” হুমকি দেন প্রশান্ত বসাক। পরে বিকেলের দিকে স্বামী সুব্রত গাঙ্গুলীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরবাইকে বাড়ি ফিরছিলেন রমা। অভিযোগ, হেতিয়া থেকে লোকপুর যাওয়ার রাস্তায় আগে থেকেই ওঁত পেতে ছিল কয়েকজন দুষ্কৃতী। সেখানে প্রশান্ত বসাক ৬ থেকে ৭ জনকে নিয়ে তাঁদের পথ আটকান বলে অভিযোগ।
রমা গাঙ্গুলী ও তাঁর স্বামীর দাবি, এরপর শুরু হয় মারধর। তাঁদের চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং রমা গাঙ্গুলীকে খুনেরও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর কোনওক্রমে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে জয়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সুব্রত গাঙ্গুলী। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে জয়পুর থানার পুলিশ।

সাফাই তৃণমূল নেতার
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্তে নেমে বুধবার রাতে প্রশান্ত বসাককে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশান্ত বসাক দাবি করেন, “আমাকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে তা আমি জানি না। আমার বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জয়পুরের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চাপানউতোর। বিরোধীদের দাবি, পঞ্চায়েত স্তরে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি কাজের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এই ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এলাকায় যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়, তার জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

