Purush Lakshmi scam Bengal
Bengal Liberty, ৩০ মে ,রঘুনাথগঞ্জ: রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা দিনের পর দিন ঢুকছিল পুরুষের অ্যাকাউন্টে! মুর্শিদাবাদে ফের সামনে এল এমনই এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণা চক্রের হদিশ। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এবার রঘুনাথগঞ্জের বাসিন্দা তারিকুর রহমানকে গ্রেফতার করল বহরমপুর থানার পুলিশ। ধৃতের মোট ৮টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা ঢুকত বলে দাবি তদন্তকারীদের। এই নিয়ে জেলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার জালিয়াতি কাণ্ডে মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করা হল।

এক পরিবারেই ৮টি অ্যাকাউন্ট! (Purush Lakshmi scam Bengal)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তারিকুর রহমানের পরিবারের জালিয়াতির ছক ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। তারিকুরের নিজের নামে ৩টি, তাঁর স্ত্রীর নামে ৩টি এবং দুই ছেলের নামে ২টি— অর্থাৎ মোট ৮টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, মহিলাদের জন্য বরাদ্দ এই প্রকল্পের টাকা নিয়ম করে প্রতি মাসে এই ৮টি অ্যাকাউন্টে মোট ৮,০০০ টাকা করে ঢুকত।
রাকিবুল থেকে মোস্তাফিজুর: যেভাবে ফাঁস হলো চক্র (Purush Lakshmi scam Bengal)
এই জালিয়াতির শিকড় অনেক গভীরে। ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েকদিন আগে, যখন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বহরমপুরের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলামের নাম প্রকাশ্যে আনেন। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পর পুলিশ রাকিবুলকে গ্রেফতার করে এবং একটি বিশেষ তদন্তকারী টিম (SIT) গঠন করা হয়।
রাকিবুলকে ম্যারাথন জেরা করে উঠে আসে মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তির নাম। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার পর জানতে পারে, মোস্তাফিজুর আসলে এই জালিয়াতি র্যাকেটের মাস্টারমাইন্ড। সে শয়ে শয়ে পুরুষের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করত। আর তার এই বড় ‘ক্লায়েন্ট’দের মধ্যেই অন্যতম ছিল রঘুনাথগঞ্জের এই তারিকুর রহমান।
বিডিও-র রিপোর্টেও মেলেনি সুরাহা (Purush Lakshmi scam Bengal)
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, শয়ে শয়ে পুরুষের অ্যাকাউন্টে এভাবে টাকা চলে যাওয়াটা কোনো ছোটখাটো ত্রুটি নয়, বরং একটি সুসংগঠিত অপরাধ। উল্লেখ্য, এর আগে ডোমকলের বিডিও এই ‘পুরুষ লক্ষ্মী’দের বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্টও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, সে সময় ব্যবস্থা নেওয়া তো দূর অস্ত, উল্টে বিডিও-কেই হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল।

প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি
রঘুনাথগঞ্জের তারিকুর গ্রেফতার হওয়ার পর এখন জেলাজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের হকের টাকা যারা নয়ছয় করছে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। এই চক্রের জাল আর কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

