Abhishek Banerjee Egg Attack
Bengal Liberty: তৃণমূলের রাজপুত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোনারপুরে শারীরিক হেনস্থার অন্যতম হাতিয়ার হয়েছে ডিম। কয়েকদিন আগে নিমতায় দমদমের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়কেও উদ্দেশ করে ডিম ছোঁড়া হয়েছিল (Abhishek Banerjee Egg Attack)। তবে ভারতীয় রাজনীতিতে নেতাদের উদ্দেশে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা কোনও নতুন বিষয় নয়। সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে এই ধরনের প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সহ সাম্প্রতিক সংযোজন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ।
আধুনিক যুগে ডিম নিক্ষেপকে প্রতিবাদের একটি প্রতীকী ভাষা হিসেবে দেখা হলেও এর ঐতিহাসিক শিকড় আরও পুরোনো। প্রাচীন ইউরোপে জনসমক্ষে অপমান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে অপছন্দের ব্যক্তি, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা বা সমাজচ্যুত অপরাধীদের দিকে পচা ফল, সবজি কিংবা ডিম নিক্ষেপের রীতি ছিল। এর উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শারীরিক ক্ষতি করা নয়, বরং সামাজিকভাবে হেয় করা।

প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ডিম ছোড়ার ইতিহাস (Abhishek Banerjee Egg Attack)
গ্রিক কবি হিপোনাক্সের সময়কার কিছু বর্ণনায় সমাজচ্যুত ব্যক্তিদের দিকে পচা খাদ্য নিক্ষেপের উল্লেখ পাওয়া যায়। মধ্যযুগীয় ইউরোপে ‘চারিভারি’ নামে পরিচিত গণ-উপহাসের নানা রীতিতেও খাদ্যদ্রব্য নিক্ষেপের ঘটনা দেখা যেত। কখনও কখনও অপরাধীদের জনসমক্ষে দাঁড় করিয়ে সাধারণ মানুষ তাদের দিকে ডিম বা অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করত। আধুনিক ‘এগিং’ এর সঙ্গে এই প্রথাগুলির কিছু ঐতিহাসিক সাদৃশ্য রয়েছে।
Abhishek Banerjee: অভিষেকের কর্মফল | Bengal Liberty@abhishekaitc @AITCofficial #AbhishekBanerjee #MamataBanerjee #TMCWestBengal #TMCNews #BengalLiberty pic.twitter.com/1pFob0wZRq
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) May 30, 2026
বিশ শতকের শেষভাগ এবং একবিংশ শতাব্দীতে ডিম নিক্ষেপ রাজনৈতিক প্রতিবাদের একটি বহুল পরিচিত রূপে পরিণত হয়। ২০০১ সালে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী জন প্রেসকটের ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচিত হয়। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য তথা বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লস একাধিকবার এই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হন।

ভারতীয় রাজনীতিতেও রয়েছে একাধিক নজির (Abhishek Banerjee Egg Attack)
ভারতেও রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রকাশের ক্ষেত্রে ডিম নিক্ষেপের নজির রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে, যা প্রতিবাদকারীরা প্রতীকী অসন্তোষ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন।বিশ্বের বহু দেশে ডিম নিক্ষেপকে রাজনৈতিক নেতা বা জনপরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতীকী অপমান ও প্রতিবাদের একটি রূপ হিসেবে দেখা হয়। সাধারণত এর উদ্দেশ্য শারীরিক ক্ষতি করা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতি অসন্তোষ, ক্ষোভ বা সামাজিকভাবে বর্জনের বার্তা জনসমক্ষে তুলে ধরা। ডিমের দুর্গন্ধ ও আঠালো বৈশিষ্ট্য এই প্রতীকী অপমানকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে।

একই ভাবেই অভিষেককে ডিম ছোড়ার ঘটনা জনগণের প্রতিবাদের ভাষা, বলা ভালো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ । ভোটের প্রচারে বেরিয়ে কখনও “ডিজে বাজানো”র হুমকি, কখনও আবার “দিল্লির কোন বাবা বাঁচায়” বলে হুঁশিয়ারির কথা বলে সন্ত্রাসের যে বাতাবরণ তৈরি করার প্রয়াস অভিষেক নিয়েছিলেন, তাতে ডিম ছুঁড়ে তাঁকে ক্ষোভের জবাব দেওয়ার সোনারপুরের জনতার উদ্যোগকে অনেক লঘু বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ । প্রতিবাদের এমন ভাষাকে সদ্য পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন শেষে দুর্নীতি অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ মনে করছে অনেকে । গত ১৫ বছর বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের আত্ম অহংকার ও একচেটিয়া দাপট সোনারপুরে অভিষেককে ডিম ছোড়ার মধ্য দিয়ে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে জনতা জনার্দন।

