TMC symbol lose
Bengal Liberty:
মহাসংকটে তৃণমূলের অস্তিত্ব। ক্ষমতা হারানোর পথে প্রাক্তন শাসকদল (TMC symbol lose)। পুরনো তৃণমূল থেকে একের পর এক বিধায়ক বেরিয়ে যাচ্ছেন। ঋতব্রত ও সন্দীপনদের সঙ্গে আরও বহু বিধায়ক দল ছাড়ার পথে। তৃণমূলের ৪৮ জন বিধায়ক নিজেদেরই আসল তৃণমূল বলে দাবি করছেন। তাঁরা জোটবদ্ধ হয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সূত্রের খবর, অভিষেকপন্থীদের হাতছাড়া হতে পারে তৃণমূলের প্রতীকও। দলের অন্দরের একাংশের বিধায়ক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেতা হিসেবে মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, দলের নেতৃত্বে আসুন ঋতব্রত। ফলে মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিমদের মতো নেতারা দলহীন বিধায়ক হয়ে যেতে পারেন।

হাতছাড়া হতে পারে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক!
সূত্রের খবর, পুরনো তৃণমূলের সংগঠন এখন নড়বড়ে অবস্থায়। দলের অধিকাংশ বিধায়ক, সাংসদ ও কাউন্সিলর দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। স্পিকারের কাছে ৪৮ জন বিধায়ক যৌথভাবে একটি চিঠি জমা দিতে চলেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, দলত্যাগী বিধায়কের সংখ্যা ৫২-এ পৌঁছালে জোড়াফুল প্রতীকের ওপর বর্তমান নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ আর নাও থাকতে পারে।

ঋতব্রত শুধুই ‘মুখোশ’!
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা অনেক আগেই তৃণমূল ত্যাগ করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতৃত্বে দেখতে অনীহা রয়েছে দলের একাংশের মধ্যে। বর্তমানে তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা হিসেবে দেখতে চাইছেন। সূত্রের দাবি, ‘নব তৃণমূল’ গঠিত হলেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল সামনের মুখ। নেপথ্যে রয়েছেন দলের একাধিক শীর্ষস্তরের ক্ষুব্ধ হেভিওয়েট নেতা।

চরম সংকটে ঘাসফুল শিবির
ভোটের পর থেকেই একের পর এক তথ্য সামনে আসছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একাংশ বিধায়কের অভিযোগ, দলে থেকেও তাঁদের বাক্স্বাধীনতা ছিল না এবং মতামতের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হতো না। মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতারা দলহীন বিধায়ক হিসেবে থেকে যেতে পারেন বলেও জল্পনা রয়েছে। প্রতীক হাতছাড়া হলে তা রক্ষা করাও সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে আগামী পাঁচ বছর তাঁদের দলহীন বিধায়ক হিসেবেই থাকতে হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের দলীয় কর্মী ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত কয়েকজন নেতা এখনও পুরনো তৃণমূলের পক্ষেই অনড় রয়েছেন।
বাংলার মানুষ হয়তো আরেকটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে। পুরনো তৃণমূলের পতন, নব তৃণমূলের উত্থান এবং জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

