US Strikes Iran
Bengal Liberty, ১১ জুন ২০২৬ : ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। গত তিন মাস ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে লাগাতার হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। শান্তি বৈঠক থেকে শুরু করে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা—কোনো কিছুই এই সংঘাত থামাতে পারছে না। এরই মধ্যে মার্কিন হামলায় তীব্র পানীয় জলসংকটের মুখে পড়েছে ইরানের সাধারণ মানুষ।
হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন বিমান হামলায় দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পানীয় জলের জলাধার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের ২০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা চরম জলসংকটে পড়েছেন। বর্তমানে এই অঞ্চলে তীব্র দাবদাহ (৪৫-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা) চলায় পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত(US Strikes Iran)
গত সোমবার মার্কিন বাহিনীর একটি অ্যাপাচি (Apache) হেলিকপ্টার হরমুজ প্রণালীর কাছে ভেঙে পড়ে। এর পরই মার্কিন সামরিক বাহিনী দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক এবং কেশম দ্বীপে পাল্টা বিমান হামলা চালায়।
এই হামলায় সিরিক কাউন্টির বামানি ডিস্ট্রিক্ট এবং কুহেস্তাক অঞ্চলের দুটি কংক্রিটের পানীয় জলের প্রধান ট্যাংক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। যার একটির ধারণক্ষমতা ৫০০ ঘনমিটার এবং অন্যটির ২০০০ ঘনমিটার।
মানবিক বিপর্যয় ও পাল্টা আঘাত

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জলাধার দুটি ধ্বংস হওয়ায় প্রায় ১০টি গ্রামের ২০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা আকস্মিকভাবে বিশুদ্ধ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তীব্র গরমের মধ্যে পানির বিকল্প উৎস না থাকায় সিরিক শহরে এক মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পর ইরানের তরফ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এই হামলাকে “মানবতাবিরোধী অপরাধ” বলে আখ্যায়িত করেছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে তারা জর্ডান, কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
উত্তেজনার এই আবহেই ইরানের জাতীয় ফুটবল দল বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছে। ক্রীড়াক্ষেত্রে এই মেলবন্ধনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে দুই দেশের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বিশ্ববাসীকে আবারো এক উদ্বেগের বার্তা দিল।

