Abhishek Banerjee CID
Bengal Liberty: বিধানসভায় বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় অবশেষে সিআইডির মুখোমুখি হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার ভবানী ভবনে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাঁকে জেরা করেন গোয়েন্দারা। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের পরেও তদন্তকারীরা সন্তুষ্ট নন। তাই আগামী রবিবার, ১৪ জুন তাঁকে ফের হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেরায় অসঙ্গতি ও অধরা রেজোলিউশন বুক (Abhishek Banerjee CID)
সিআইডি সূত্রে খবর, দীর্ঘ জেরাতেও বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সেই মূল ‘রেজোলিউশন বুক’ বা রেজোলিউশন কপিটি কোথায়? তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ও ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে তল্লাশি চালিয়েও তদন্তকারীরা সেই নথির হদিশ পাননি। এছাড়া, বৈঠকে অনুপস্থিত থেকেও কীভাবে কিছু বিধায়কের স্বাক্ষর প্রস্তাবপত্রে এল, তা নিয়েও অভিষেকের উত্তরে ব্যাপক অসঙ্গতি মিলেছে বলে গোয়েন্দাদের দাবি।

তদন্তে ‘জানি না’ উত্তর, চাপ বাড়ছে অভিষেকের (Abhishek Banerjee CID)
তদন্তকারী সংস্থার তৈরি করা প্রশ্নমালার অধিকাংশ উত্তরই অভিষেক এড়িয়ে গিয়েছেন বলে খবর। বিধায়কদের সই কেন এবং কীভাবে হয়েছে, সেই বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। গোয়েন্দাদের জেরার মুখে তিনি বারবার ‘জানি না’ বলে উত্তর দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি মেজাজও হারিয়েছিলেন। এর ফলে সিআইডি আধিকারিকরা এখন তাঁর উত্তরগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে দেখছেন।

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন (Abhishek Banerjee CID)
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর ভবানী ভবন থেকে বেরিয়েই অভিষেক সোজা কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। সেখানে দলের প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেন তিনি। বিরোধীদের মতে, স্বাক্ষর জালিয়াতির এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলারই চরম নিদর্শন। এদিকে, সিআইডি এই মামলার তদন্তে কোনোভাবেই ঢিলেমি দিতে রাজি নয়। ১৪ জুন রবিবার ফের তলবের নোটিস প্রমাণ করে যে, এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে অভিষেক খুব একটা সহজে রেহাই পাচ্ছেন না।


