Mahua Moitra TMC
Bengal Liberty: তৃণমূলের অন্দরে যখন ভাঙনের সুর তীব্র, তখন নিজের ঘর বাঁচাতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই এবার বিদ্রোহী শিবিরে যোগ না দেওয়ার ‘পুরস্কার’ হিসেবে কৃষ্ণনগর লোকসভা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হলো মহুয়া মৈত্রকে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সায়নী ঘোষের মতো ঘনিষ্ঠ নেত্রীর দলত্যাগের পর মহুয়াকে এই দায়িত্ব দিয়ে কি শেষরক্ষা হবে? নাকি এটি ডুবন্ত তরণী বাঁচানোর এক মরিয়া চেষ্টা মাত্র?
বিশ্বস্ততার দাম, নাকি দায়সারা নিয়োগ? (Mahua Moitra TMC)
একদিকে সায়নী ঘোষ, কাকলী ঘোষ দস্তিদারদের মতো নেতারা যখন মমতার ‘অযোগ্য’ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে আলাদা ফ্রন্ট গড়েছেন, ঠিক তখন মহুয়া মৈত্রকে এই নতুন সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়াকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এক বিশেষ সমীকরণ হিসেবেই দেখছেন। তৃণমূলের ভাঙন যখন সময়ের অপেক্ষা, তখন মহুয়াকে কৃষ্ণনগরের দায়িত্ব দিয়ে মমতা কি বাকিদের বার্তা দিতে চাইছেন? নাকি মহুয়া নিজেই এখন নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে মরিয়া? কারণ মহুয়া নিজেই স্বীকার করেছেন, সায়নী ঘোষের মতো ঘনিষ্ঠ নেত্রীর দলবদল তাঁর হৃদয় ভেঙেছে। তিনি সায়নীকে নিজের বোনের মতো দেখতেন। আজ সেই সায়নীই মমতার দিক থেকে মুখ ফিরিয়েছেন।

সুবিধাভোগী বনাম রাজনৈতিক লড়াই (Mahua Moitra TMC)
মহুয়া মৈত্র ইদানীং বিরোধী নেতার শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারী স্বচ্ছভাবে রাজনীতি করে আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, আর বর্তমান তৃণমূলের অনেকেই কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ‘গদ্দার’ সাজছেন। দলের নেতাদের ‘কিউকি সাংসদ ভি কভি গদ্দার থে’ বলে কটাক্ষ করা মহুয়া কি এখন মমতার কৃপায় কৃষ্ণনগরের দায়িত্ব পেয়ে সন্তুষ্ট? নাকি তাঁর এই আনুগত্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের জমে থাকা একরাশ অভিমান ও অনিশ্চয়তা?

মমতার তৃণমূল কি এবার মহুয়ার হাত ধরে বাঁচবে? (Mahua Moitra TMC)
১২ জুন ২০২৬ তারিখে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের দীর্ঘ তালিকা বাড়ছে, অন্যদিকে মহুয়া মৈত্রের মতো নেতাদের হাতে তড়িঘড়ি জেলার দায়িত্ব তুলে দিয়ে মমতা কি দলের ভাঙন রুখতে পারবেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই ‘শুদ্ধিকরণ’ আসলে দলের চূড়ান্ত দেউলিয়া হওয়ারই সংকেত। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় বলতেন ‘উন্নয়নই আসল’, আজ তাঁরই দল কেবল ‘গদ্দার’ আর ‘বিশ্বস্ত’-এর খেলায় ব্যস্ত। মহুয়াকে এই নতুন দায়িত্ব কি আদৌ কৃষ্ণনগরে তৃণমূলকে জেতাতে পারবে, নাকি এই নিয়োগ কেবল সময়ের অপচয়? জবাব মিলবে খুব শীঘ্রই।


