Tata Return Singur
Bengal Liberty: পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্রে নতুন অধ্যায় যোগ করার অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠীর প্রস্থান রাজ্যের শিল্প বিকাশে যে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এবার টাটাদের ফেরানোর জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বর্তমান সরকার। আজ এক সভা থেকে তিনি স্পষ্ট করলেন, শিল্প আনার জন্য গুলি বা তালা ঝোলানোর প্রয়োজন নেই, স্বচ্ছ পরিকল্পনাই যথেষ্ট।
টাটাদের ফেরাতে তৎপর বর্তমান সরকার (Tata Return Singur)
শিল্প দফতরের টিম এখন সক্রিয় এবং সিঙ্গুরের মাটি এখন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সিঙ্গুরের জমি এখন আর পূর্বের সেই অচলাবস্থায় নেই। ২০০৮ সালে যে টাটা গোষ্ঠী আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে রাজ্য ছেড়েছিল, তাদের পুনরায় বাংলায় স্বাগত জানানোর জন্য বর্তমান সরকার মরিয়া। অতীতে শিল্পের নামে যে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি হয়েছিল, বর্তমান সরকার তার থেকে দূরে থেকে গঠনমূলক উন্নয়নের পথেই এগোতে চায়।

অতীতের ভুল ও দ্বিমুখী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট (Tata Return Singur)
২০০৬ সালে সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ ঘিরে শুরু হয়েছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা। জমি রক্ষা কমিটির আন্দোলন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাগাতার অনশন ও দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধের ফলে টাটা গোষ্ঠী গুজরাটে কারখানা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। সেসময় তৃণমূলের সেই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন রাজনাথ সিংহ ও লালকৃষ্ণ আদবানীদের মতো বিজেপি নেতৃত্বও। শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, অতীতের সেই অস্থিরতা আজ রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনাকে যে পিছিয়ে দিয়েছিল, তা অনস্বীকার্য। এখন বিজেপি নেতাদের মুখে টাটাদের ফেরানোর কথা শোনা গেলেও, অতীতের সেই রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে জনমানসে দ্বিচারিতার প্রশ্নও উঠছে।

শিল্পের অপেক্ষায় সিঙ্গুরবাসী (Tata Return Singur)
সিঙ্গুরের সাধারণ মানুষ বরাবরই ভাতা নয়, শিল্প চেয়েছিলেন। বিগত সরকারের সময়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেই শিল্প আর আসেনি। এখনকার বিজেপি সরকার সেই ভুল আর করতে চায় না। শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে টাটাদের মতো শিল্পগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে এনে রাজ্যের বেকারত্ব দূর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এখন দেখার, বহু বছর আগের সেই শিল্প-স্মৃতি সিঙ্গুরে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় কি না।


