Us Iran Conflict
Bengal Liberty, ১৩ জুন ২০২৬ : বিগত তিন মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলছে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয়(Us Iran Conflict) নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই-এর মৃত্যুর পর থেকেই এই যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম আকাশছোঁয়া। প্রতিদিনই বাড়ছে গ্যাস ও পেট্রোলের দাম। সব মিলিয়ে চরম সমস্যায় জর্জরিত সাধারণ মানুষ। একাধিক শান্তি বৈঠক এবং যুদ্ধবিরতির পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি, বরং আরও অবনতি হয়েছে। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের জোরালো ইঙ্গিত মিলল।
যুদ্ধের ইতি?(Us Iran Conflict)
আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সমঝোতা প্রক্রিয়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে সংঘাতের অন্যতম মূল কারণ তেহরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এখনই কোনো আলোচনা হচ্ছে না; তা রাখা হয়েছে আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে। আরাঘচি জানান, মউ (MoU) স্বাক্ষরের পর ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিলেও পরিস্থিতি যুদ্ধের আগের মতো স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত থামাতে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, যদিও সে সময় ইরান তা স্বীকার করেনি। তবে এবার আরাঘচির গলাতেও একই সুর শোনা গেল।

যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষ বার্তায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন: “বিভিন্ন প্রান্তের সংঘাতের আনুষ্ঠানিক ইতি টানবে এই ‘ইসলামাবাদ মউ’। এমনকি লেবাননেও সংঘাতের অবসান ঘটবে। এই মউ-তে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে উভয় পক্ষই পরস্পরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাবে। কেউ কারও বিরুদ্ধে নতুন করে সংঘাতে জড়াবে না এবং কোনো হুমকিও দেবে না।”
মউ স্বাক্ষরিত হলে দু-দেশের সম্পর্ক এক নতুন মোড় নেবে বলে মনে করেন আরাঘচি। তাঁর কথায়, “গত ৪৭ বছরে এই প্রথম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের সার্বভৌমত্বকে লিখিতভাবে স্বীকৃতি ও সম্মান জানাল আমেরিকা। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। পাশাপাশি আমাদেরও অনুরোধ করেছে যেন আমরা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করি।” আরাঘচির এই বক্তব্য থেকে মূলত পাঁচটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে।

এখনো কাটেনি জটিলতা(Us Iran Conflict)
যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত মিললেও পর্দার আড়ালে বেশ কিছু জটিলতা এখনো রয়ে গেছে।
প্রথম জটিলতা: স্ট্র্যাটেজিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে দু-পক্ষের টানাপোড়েন তুঙ্গে।
দ্বিতীয় জটিলতা: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। আমেরিকার পক্ষ থেকে বারবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, তারা ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু শক্তির চালকের আসনে বসতে দেবে না। এই নিয়ে দীর্ঘ বহু বছর ধরেই অচলাবস্থা চলছে।


তৃতীয় জটিলতা: আমেরিকার কাছে এখনো বাজেয়াপ্ত হয়ে রয়েছে ইরানের বিপুল সম্পত্তি। এই সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও এই জটিল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান হতে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে।
আপাতত যুদ্ধের সমীকরণ বদলে গিয়ে তা নিষ্পত্তির দিকেই এগোচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—সত্যিই কি এবার যুদ্ধের চিরতরে অবসান ঘটবে, নাকি ছাইচাপা আগুন থেকে ফের জ্বলে উঠবে সংঘাত? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই এখন আন্তর্জাতিক মহলে চলছে জোর চর্চা।


