puspa surrender
Bengal Liberty :
কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী শকুন্তলা ওরফে পুষ্পা (Pushpa Surrender)। সেই মাওবাদীকে নিয়ে এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন কলকাতার সিপি অজয় নন্দা। একসময়ে জঙ্গলমহলের ত্রাস ছিলেন মাওবাদী শকুন্তলা ওরফে পুষ্পা ওরফে বর্ষা। বেলপাহাড়ির মেচুয়া গ্রামের বাসিন্দা। থাকতেন বিহার-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশার সীমানা এলাকায় সরাই জঙ্গলে। পূর্বে পাঁচটি মামলা দায়ের ছিল শকুন্তলার নামে। ২০০১ থেকে মূলত ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী সংগঠনের বিস্তারের দায়িত্বে ছিলেন। একাধিক অপারেশনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। আজ, বুধবার লালবাজারে আত্মসমর্পণ করেছেন।

বড় সাফল্য পুলিশের Pushpa Surrender
দেশকে মাওবাদীমুক্ত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে মাওবাদী দমন সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন। সেই লক্ষ্যপূরণের পথে অনেকটাই এগিয়েছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রশাসন। একদিকে যৌথবাহিনীর টানা অভিযান, অন্যদিকে পুনর্বাসনের আশ্বাসে একের পর এক মাওবাদীর আত্মসমর্পণ! ফলে দুই দিক থেকেই বড় ধাক্কা খেয়েছে মাওবাদী সংগঠনগুলি। তবুও ছত্তিসগড় ও ঝাড়খণ্ডের কিছু দুর্গম জঙ্গল এলাকায় এখনও সক্রিয় রয়েছে সশস্ত্র মাওবাদীরা।

এরই মধ্যে ঝাড়খণ্ডে বড় সাফল্য পেল প্রশাসন। আত্মসমর্পণ করলেন ২৫ জন সশস্ত্র মাওবাদী নেতা ও কর্মী। এরা দীর্ঘদিন ধরে সারান্ডার জঙ্গল এলাকায় কার্যকলাপ চালাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে অন্তত পাঁচজনের মাথার দাম ছিল পাঁচ লক্ষ টাকা করে। এদের মধ্যে অন্যতম মাওবাদী নেত্রী রেখা মুণ্ডা, যিনি জয়ন্তী নামেও পরিচিত। রাঁচির বাসিন্দা এই নেত্রী একসময় সারান্ডার জঙ্গলে একাধিক বড় অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিল বলে অভিযোগ।

পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ Pushpa Surrender
আজ কলকাতা পুলিশের মাওবাদী শকুন্তলা আত্মসমর্পণ করলেন। ঝাড়গ্রাম ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন থানা এলাকায় একাধিক নাশকতামূলক কাজের অভিযোগ ছিল পুষ্পার বিরুদ্ধে। ঝাড়খণ্ড পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন এই মাওবাদী নেত্রী। তাঁর মাথার জন্য ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল পুলিশের তরফ থেকে। আত্মসমর্পণ করার পরে শকুন্তলা বলেন, “আমি মনে করি এখানকার যে পরিস্থিতি এখন এই আন্দোলন এখন ঠিক নয়, তাই আত্মসমর্পণ করেছি। এই সরকার বলেছে মূল স্রোতে ফিরে আসতে তাই আমি ফিরে এসেছি। সরকারের উপর অনেক আশা রয়েছে। তাই ফিরে এসেছি। যারা এখনও বেঁচে আছে তাদেরও আমি আহ্বান জানাচ্ছি যেন এসে আত্মসমর্পণ করে। ফিরে আসুক ঘর সংসার করুক।”
ছত্রিশগড়ে কয়েকটি জায়গায় ছড়িয়ে থাকা মাওবাদীরা ধীরে ধীরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করছে। এবার সেই পথে হেঁটেই জীবনের মূল স্রোতে ফিরলেন দাপুটে মাওবাদী নেত্রী।


