Bangladesh China
Bengal Liberty, ২৩ জুন ২০২৬ : ফের কি ভারতের(Bangladesh China) সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে বাংলাদেশের? গত এক বছরে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক খুব একটা মধুর পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কখনো নরম, কখনো গরম—এমন টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই দুই দেশের কূটনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন ঘটছে। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মনে করা হয়েছিল, আগের মতোই দুই রাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় থাকবে। কিন্তু বাস্তবে ভারতের চেয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার দিকেই বাংলাদেশের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।
চীনের সঙ্গে সখ্যতা(Bangladesh China)
গত ২১ জুন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান দু’দিনের সফরে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন। তবে তাঁর এই মালয়েশিয়া সফর নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়। শ্রমিকদের একাংশের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায়, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়া সীমিত করে দিয়েছে।
মালয়েশিয়া সফর শেষ করেই তিনি চীনে পৌঁছান।


এই সফরে চীনের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুই দফা বৈঠক ছাড়াও, তিনি সে দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন।
চীনকে বাড়তি গুরুত্ব(Bangladesh China)
সূত্রের খবর, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ইকোনমিক জোন বা অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা হলেও এই সফরে চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র কেনার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
এর মধ্যে অন্যতম হলো ২৪টি ‘জে-১০সিই’ (J-10CE) মাল্টি-রোল ফাইটার জেট। দ্রুততম সময়ে শত্রুঘাঁটিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারদর্শী এই বিমানগুলো কেনার বিষয়ে গত এক বছর ধরে চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি দুই দেশের সেনা প্রতিনিধিদল এই যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে পারস্পরিক দেশ সফরও করেছেন।


কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠছে, ভারতকে একপ্রকার পাশে সরিয়ে রেখে কেন চীনের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াচ্ছে ঢাকা?
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির সমীকরণগুলো অনেক বেশি জটিল। কে কার প্রকৃত বন্ধু বা প্রতিদ্বন্দ্বী, তা বোঝা কঠিন। বাংলাদেশে এখনো অভ্যন্তরীণভাবে এক ধরনের ভারতবিরোধী মনোভাব বা প্রচারণামূলক আন্দোলন চলছে। বর্তমান সরকার সেই জনমতকে উপেক্ষা করতে পারছে না। ফলে কৌশলগত কারণে প্রকাশ্যে ভারতকে বন্ধু রাষ্ট্র বলা হলেও, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হচ্ছে।”
এই সফরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় রয়েছে; তা হলো বাংলাদেশের অন্যতম বন্দর শহর মোংলায় ১১০ একর জমিতে চীনের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব।
এইসব সমীকরণের পর ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামীতে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


