Gunda Daman Bill
Bengal Liberty: বাংলায় সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি, জমি দখল-সহ বিভিন্ন সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল’। এই বিল আইনে পরিণত হলে শুধু সমাজবিরোধীরাই নন, তাঁদের আশ্রয়দাতারাও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।
আশ্রয়দাতাদের জন্য কড়া শাস্তি (Gunda Daman Bill)
এই বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা অনুযায়ী, কেউ যদি জেনেশুনে কোনো চিহ্নিত গুন্ডা বা সমাজবিরোধীকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন অথবা তাকে পুলিশ-প্রশাসনের হাত থেকে পালাতে সাহায্য করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের পাশাপাশি মোটা অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

আইনের চোখে ‘গুন্ডা’ কারা? (Gunda Daman Bill)
নতুন বিলে ‘গুন্ডা’-র একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, জমি দখল, বেআইনি খনি বা বালি-পাথরের কারবার, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা-সহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের এই আইনের আওতায় ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডও এই আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

প্রশাসনের হাতে বিস্তৃত ক্ষমতা (Gunda Daman Bill)
এই আইনের অধীনে অপরাধগুলো হবে কগনিজেবল ও নন-বেলেবল। অর্থাৎ, পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারবে এবং সহজে জামিন মিলবে না।
এছাড়া, কোনো ব্যক্তি সমাজবিরোধী কার্যকলাপে জড়াতে পারেন বলে আশঙ্কা থাকলে তাঁকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনে রাখার ক্ষমতা থাকবে প্রশাসনের। সন্দেহভাজন ব্যক্তির যেকোনো জায়গায় তল্লাশি চালানো এবং বেআইনি উপায়ে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও প্রশাসনের হাতে থাকবে।

অপব্যবহার রুখতে বিশেষ বোর্ড (Gunda Daman Bill)
আইনের অপব্যবহার রোধে একটি উচ্চপর্যায়ের অ্যাডভাইজরি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন হাইকোর্টের একজন বিচারপতি। কাউকে আটক করার তিন সপ্তাহের মধ্যে বোর্ডকে সেই মামলার পর্যালোচনা করতে হবে। বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া কাউকে দীর্ঘ সময় আটক রাখা যাবে না।
সরকারের দাবি, সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং অন্যান্য সংগঠিত অপরাধ দমনে এই আইন কার্যকর ভূমিকা নেবে। যদিও বিরোধী রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই বিলের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তবু অপরাধ দমনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে সরকার।


