Barun Biswas
Bengal Liberty: বরুণ বিশ্বাসকে কেন খুন করা হয়েছিল? একরকম মিথ আছে ‘সুখ সাধুর ভিটেতে’ ধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদের জেরে ২০১২ সালের ৫ জুলাই স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গুলি করা হয় বরুণ বিশ্বাসকে(Barun Biswas)। খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। জানা যায়, তাঁর মদতেই খুন হন বরুণ। কিন্তু খুনের নেপথ্যে কারণ কী? বরুণের পরিবারের দাবি, গাইঘাটায় বলদেঘাটা খাল এবং ইছামতী ও যমুনা নদী সংস্কারের টাকা নয়ছয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেই জ্যোতিপ্রিয়ের ‘চক্ষুশূল’ হয়েছিলেন বরুণ। পরিণতি মৃত্যু! বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাসের অভিযোগ, “জমি মাফিয়া এবং টিএমসির গুণ্ডাদের আক্রোশে খুন হয়েছিল বরুণ।”

অসিত বিশ্বাসের অভিযোগ (Barun Biswas)
বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস বলেন, ২০১৩ সালে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট সরকারের সময় তৎকালীন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার কাছ থেকে দীর্ঘ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইছামতী নদী, যমুনা নদী, বলদেঘাটা খাল, চালুন্দিয়া খাল ও টিবি খাল-সহ জলপথ সংস্কারের জন্য প্রায় ৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করানো হয়েছিল। অভিযোগ, পরে এই প্রকল্পের কাজের নামে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। যুক্ত ছিলেন তৃণমূলের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও। এই অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বরুণ বিশ্বাস। দাবি করা হয়, এরপর থেকেই তৎকালীন মন্ত্রী সহ তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরাগভাজন হয়ে ওঠেন তিনি। এছাড়াও অভিযোগ, ওই এলাকায় ইটভাটা-সহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যকলাপ রাজনৈতিক মদতে চলত। গোবরডাঙার জামদানি এলাকায় কয়েক বিঘা জমিতে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষদের উচ্ছেদের চেষ্টার বিরুদ্ধেও বরুণ বিশ্বাস পাশে দাঁড়ান। এতে জমি মাফিয়া ও শাসকদলের একাংশের ক্ষোভ আরও বাড়ে বলে দাবি করা হয়।

আরও অভিযোগ, এলাকার সমাজবিরোধীদের একত্রিত করে একটি ‘শান্তি কমিটি’ গড়ে তোলে। ওই কমিটির নামে শান্তি থাকলেও তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল বরুণ বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন প্রতিবাদী মঞ্চের কার্যকলাপ দুর্বল করে দেওয়া। এই কমিটিতে এলাকার একাধিক সমাজবিরোধীকে যুক্ত করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তিনি সরাসরি এই কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নাম এনেছেন মানস ভুঁইয়া এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এই ঘটনার পর কেটে গিয়েছে ১৪ বছর, আজও বিচার পায়নি বরুণ বিশ্বাস। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে বরুণ বিশ্বাসের ফাইল রিওপেন করার আবেদন জানিয়েছেন তাঁর পরিবার। এখন নজর খাল কাণ্ডে মৃত্যু হোক বা ধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদে। ১৪ বছর পরও সুবিচার চায় তাঁর গ্রামের মানুষ।

আরও পড়ুন :


