Proloy
Bengal Liberty: ২০১২ সালের ৫ জুলাই স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গুলি করে খুন করা হয় বরুণ বিশ্বাসকে। ‘সুখ সাধুর ভিটেতে’ ধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদে খুন করা হয়েছিল বলেই দাবি করা হয় (Proloy)। ১৯৯৯-২০০২ সালের সময়টায় রীতিমতো দুষ্কৃতীদের স্বর্গ রাজ্য হয়ে উঠেছিল সুটিয়া। এলাকায় লাগামহীনভাবে বেড়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম। সূত্রের খবর, মাত্র দু থেকে আড়াই বছরের মধ্যে প্রায় ৩২টি ধর্ষণ ও ১২টি খুনের ঘটনা ঘটে।

গ্রামবাসীর পাশে বটগাছের মতো দাঁড়ায় বরুণ বিশ্বাস। পরিণতি? খুন। তাঁর মৃত্যুর পর নাম জড়িয়েছিল তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং মানস ভুঁইয়ার। পুরো ঘটনার মোড় ঘোরাতে ২০১৩ সালে বানানো হয় একটি মুভি। রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় “প্রলয়”। কে এই রাজ চক্রবর্তী? যিনি তৃণমূলেরই নেতা। অর্থাৎ বরুণ বিশ্বাস বিচার তো পায়নি উপরন্তু ঘটনার মোড় ঘোরাতে তৎপর হয়ে ওঠে তৃণমূল নেতারা। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই বলছেন ওই ছবিতে খুন হয়ে যাওয়া শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের চরিত্রায়ণ ঠিক হয়নি।
আরও পড়ুন :-
Barun Biswas: শুধুই সুটিয়া গণধর্ষণের প্রতিবাদ নয়! ৩৯ কোটির দুর্নীতির প্রতিবাদও কাল হয়েছিল বরুণের!
কী আছে মুভিতে (Proloy)
ছবির কাহিনির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি গ্রাম, যেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও তাঁর ভাই প্রসুনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসের রাজত্ব চলে। সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে একাই সোচ্চার হয় গ্রামের তরুণ শিক্ষক বরুণ, যিনি কলকাতার একটি স্কুলে পড়াতেন (Proloy)। কিন্তু একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রেলস্টেশনে আততায়ীদের গুলিতে খুন হন তিনি। বরুণের মৃত্যুর পর গ্রামে আসেন শিক্ষক বিনোদবিহারী দত্ত।
তিনি স্থানীয় স্কুলে যোগ দিয়ে বুঝতে পারেন, আতঙ্কের পরিবেশে অধিকাংশ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস হারিয়ে ফেলেছেন। এরপর তিনি বরুণের লড়াই ও হত্যার ঘটনা কলকাতার মানুষ এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেন, যদিও প্রথমদিকে তেমন সাড়া মেলে না। ঠিক সেই সময় বিশেষ শাখার অফিসার অনিমেষ দত্ত তদন্তে নেমে বিনোদবিহারীর পাশে দাঁড়ান। দু’জনে মিলে সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচারের লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুন :-
‘মুভিতে কোনও সত্য নেই’ দাবি স্থানীয়দের (Proloy)
২০১২ সালের জুলাইয়ে খুন হয়েছিলেন সুটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক তথা শিয়ালদহর মিত্র ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। ঘটনার এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের গ্রেফতারির পর ফের আলোচনায় উঠে আসে তাঁর নাম। বরুণের হত্যার পর থেকেই তাঁর বাবা, দাদা ও দিদি অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দিকে। যদিও সেই মামলায় নয়, অন্য একটি মামলায় জ্যোতিপ্রিয় গ্রেফতার হওয়ার পর বরুণের পরিবার আবারও তাদের পুরনো অভিযোগ সামনে এনেছে বরাবর। তারপরই চর্চায় আসে বরুণ বিশ্বাসের জীবন অবলম্বনে নির্মিত ‘প্রলয়’ ছবিটি।

২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রলয়’ ছবিটি বরুণ বিশ্বাসের জীবনের অনুপ্রেরণায় তৈরি হলেও, ছবির উপস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছে তাঁর পরিবার। বরুণের দিদি প্রমিকা রায়ের অভিযোগ, ছবিতে তাঁর ভাইয়ের ব্যক্তিগত জীবনকে বাস্তবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখানো হয়নি। তাঁর দাবি, বরুণ বিশ্বাসের কোনও প্রেমিকা ছিলেন না, অথচ ছবিতে সেই ধরনের একটি চরিত্র দেখানো হয়েছে।
পরিবারের মতে, ছবির একাধিক অংশ নির্মাতার কল্পনানির্ভর, বাস্তব ঘটনার সঙ্গে যার মিল খুবই কম। তাঁদের আরও দাবি, ঘটনার সাথে সিনেমার কোনও সাদৃশ্য নেই। তাহলে কেন বানানো হয়েছিল মুভিটি? রাজনৈতিক মহলের মতে বরুণের খুনের ঘটনার দায় এড়াতে বলাই বাহুল্য তৃণমূল নেতাদের বাঁচাতেই এবং সমবেদনা জানানোর নাটকেই রচনা করা হয় এই মুভি।



