Abhisekh Banerjee
Bengal Liberty:
কণ্ঠস্বরের নমুনা না দেওয়া এবং তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাই কোর্ট (Abhisekh Banerjee)। শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আদালতের দেওয়া নির্দেশ মেনে তদন্তে সহযোগিতা না করলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ
শুনানির শুরুতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “কবে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন? না হলে আমি নির্দেশ প্রত্যাহার করব। সব কিছুরই একটা সীমা থাকা উচিত।” তিনি সাফ জানান, পুলিশের নোটিশে সাড়া দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করতেই হবে। তা না হলে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ জারি করবে যে আবেদনকারী তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। এমনকি সহযোগিতা না করলে মামলা খারিজ করে জরিমানাও করা হতে পারে বলে সতর্ক করেন বিচারপতি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, “গত ২১ মে আমি যে রক্ষাকবচ দিয়েছিলাম, তা প্রত্যাহার করব। না হলে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিয়ে আসুন।” এরপর আইনজীবী আদালতের কাছে নিজের বক্তব্য পেশ করার জন্য দু’মিনিট সময় চান। শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল স্বীকার করছেন যে সংশ্লিষ্ট অডিওতে থাকা কণ্ঠস্বরটি তাঁরই। তবে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, “যা-ই হোক না কেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের স্বার্থে যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা পালন করতেই হবে। তদন্তে সহযোগিতার শর্তেই আদালত ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ বা রক্ষাকবচ দিয়েছিল।”

একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বিচারপতি বলেন, “একই বিষয়ে এই আদালত একটি নির্দেশ জারি করেছে, রক্ষাকবচও পেয়েছেন। অথচ সেই বিষয়েই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন মামলা করেছেন। এটা কী ধরনের আচরণ?” বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “আপনারা বিচার পদ্ধতির অপব্যবহার করছেন।”
রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি
পাল্টা অভিষেকের আইনজীবী যুক্তি দেন, “আমার মক্কেলের রক্ষাকবচ রয়েছে মানে এই নয় যে, তিনি সমস্ত সাংবিধানিক অধিকার থেকে রক্ষাকবচ পেয়েছেন।” তবে আদালতের কড়া মনোভাব দেখে আইনজীবী আশ্বস্ত করেন, তাঁর মক্কেল তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করবেন এবং আগামীকাল বিকেল ৩টের মধ্যে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাবেন। একই সঙ্গে তিনি আবেদন জানান, নমুনা দিতে যাওয়ার সময় অতীতে ঘটা ‘ডিম ছোড়ার’ মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

এর জবাবে বিচারপতি বলেন, “ডিম ছোড়ার ঘটনা বন্ধ হওয়া উচিত।” তিনি রাজ্যকে নির্দেশ দেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। অন্যদিকে, রাজ্যের আইনজীবী আদালতকে জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডি দফতরে নয়, আদালতেই গিয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন। পাশাপাশি অভিষেকের আইনজীবী আবেদন করেন, অন্য কোনো মামলায় যেন তাঁর মক্কেলের কণ্ঠস্বরের নমুনা না নেওয়া হয়, সেটিও নির্দেশে স্পষ্ট করুক আদালত। যদিও আদালত এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এখন দেখার, আদালতের কড়া বার্তার পর নির্দেশ মেনে শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাজিরা দেন কি না।

