Suvendu Adhikari
Bengal Liberty:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পরেই রাজ্যে জারি হলো বিশেষ বিজ্ঞপ্তি (Suvendu Adhikari)। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে এবার গঠিত হলো বিচারবিভাগীয় কমিশন। গত ১০ জুলাই জারি হওয়া এই বিজ্ঞপ্তিটি ১৩ জুলাই ‘দ্য কলকাতা গেজেট’ (এক্সট্রা-অর্ডিনারি)-এ প্রকাশিত হয়েছে। রাজ্যপালের নির্দেশে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিব তথা স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত শিক্ষা, খাদ্য ও সরবরাহ, বিপর্যয় মোকাবিলা ও ত্রাণ, পুরসভা ও পঞ্চায়েত, আবাসন, মৎস্য, শিল্প, পূর্ত, ভূমি এবং জিটিএ সহ একাধিক সরকারি দফতর ও প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করতে ‘কমিশন অন ইনস্টিটিউশনাল করাপশন ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’ গঠন করা হয়েছে।

দুর্নীতি তদন্তে বিচারবিভাগীয় কমিশন
এই কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। তাঁর সঙ্গে তদন্ত শাখার প্রধান হিসেবে থাকবেন একজন জ্যেষ্ঠ আইপিএস আধিকারিক, একজন আইএএস আধিকারিক এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞ হিসেবে একজন ডব্লিউবিআরএস আধিকারিক। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞদেরও এই কমিশনে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে বলে জানা গিয়েছে।

কমিশনের তদন্তের আওতায় থাকছে—ঘুষ, তোলাবাজি, আমফান ত্রাণ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY), ১০০ দিনের কাজ ও মিড-ডে মিল-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ। এছাড়াও ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম, সরকারি অর্থ তছরুপ, বেআইনি সম্পত্তি অর্জন, মিথ্যা মামলা, বেআইনি নির্মাণ, সরকারি চাকরি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে দুর্নীতি এবং প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (মেডিক্যাল শিক্ষা)-সহ সব ক্ষেত্রের দুর্নীতির অভিযোগ এই কমিশন তদন্ত করে দেখবে।

রাজ্যজুড়ে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত
‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫২’ অনুযায়ী, এই কমিশন দেওয়ানি আদালতের সমতুল্য ক্ষমতা ভোগ করবে। সাক্ষী তলব, শপথের মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ, নথি ও সরকারি রেকর্ড তলব, হলফনামা গ্রহণ, অভিযোগ গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করার ক্ষমতা থাকবে এই কমিশনের।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে তদন্তের রিপোর্টও জমা দেবে কমিশন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এই কমিশন কোনও আইনসিদ্ধ তদন্তকারী সংস্থার বিকল্প নয় এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা অন্য কোনও বৈধ কমিশনের তদন্তাধীন বিষয়ে এটি কোনও হস্তক্ষেপ বা অনুসন্ধান করবে না। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এই কমিশনের কার্যপরিধি আরও সম্প্রসারণের ক্ষমতা রাজ্য সরকারের হাতে থাকবে।

