Adhir Ranjan Chowdhury
Bengal Liberty: বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর জেরে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মুর্শিদাবাদের বাসিন্দাদের সাংবিধানিক অধিকার এবং সরকারি পরিষেবা নিশ্চিত করার দাবিতে জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন জমা দিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)।

স্মারকলিপিতে উল্লেখিত অভিযোগের তালিকা! (Adhir Ranjan Chowdhury)
সংশ্লিস্ট ডেপুটেশনে দাবি করা হয়েছে, মুর্শিদাবাদে প্রায় ৫.৫ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সর্বাধিক। গোটা রাজ্যে এই সংখ্যাটি প্রায় ৩৪ লক্ষ বলে উল্লেখ করা হয়েছে (Adhir Ranjan Chowdhury)। কংগ্রেসের দাবি, এটি আর শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী বিষয় নয়; বরং সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। নাগরিক পরিচয় এবং সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে গভীর অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।
স্মারকলিপিতে অধীর লিখছেন, মুর্শিদাবাদের অধিকাংশ মানুষ গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের বড় অংশ সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্প, রেশন ব্যবস্থা, কৃষি সহায়তা এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের উপর নির্ভরশীল। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে বহু মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, এর প্রভাব ভবিষ্যতে তাঁদের সরকারি পরিষেবা, পরিচয়পত্র বা অন্যান্য অধিকার প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও পড়তে পারে।
আরো পড়ুন:-
Baruipur News: সূর্যপুর গণপিটুনি কাণ্ডে গ্রেফতার আরও ১। ধর্মীয় পরিচয় দেখে হত্যা!
অধীরের অভিযোগ, SIR-সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তির গতি অত্যন্ত শ্লথ। প্রায় ৩২ লক্ষ আপিল এখনও বিচারাধীন। অথচ নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র প্রায় ৩৮ হাজার মামলার। এই পরিস্থিতিতে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ এবং দ্রুত মামলার নিষ্পত্তির জন্য সময়বদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, SIR-সংক্রান্ত আপিলের জন্য একটি একক সরকারি ডিজিটাল পোর্টাল চালু করতে হবে, যেখানে প্রতিদিনের শুনানির তালিকা, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য তথ্য প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদের মতো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ব্লকভিত্তিক অতিরিক্ত আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে।

ডেপুটেশনে আরও বলা হয়েছে, সমস্ত আপিল নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া কোনও বাসিন্দাকে রেশন, পেনশন, শিক্ষা, বৃত্তি, জাতিগত শংসাপত্র, আবাসন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জমি রেজিস্ট্রি বা অন্য কোনও সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এ-বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারির দাবিও জানানো হয়েছে।
ডেপুটেশনের শেষে অধীর রঞ্জন চৌধুরী লিখছেন, ভোটার তালিকা পরিশুদ্ধ করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলেও, সেই প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ বা অনিশ্চয়তার সৃষ্টি না-হয়, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদ জুড়ে বাংলাদেশিদের দাপট যে বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেটা প্রথম অধীর চৌধুরী-ই সংবাদ মাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
আরো পড়ুন:-
Abhishek Banerjee: হাইকোর্টের কড়া অবস্থান! অবশেষে ভয়েস স্যাম্পল দিতে আদালতে হাজির অভিষেক

