Sonam Wangchuk
Bengal Liberty: লাদাখের পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুকের ১৯ দিনের অনশন আন্দোলনের সমর্থনে সরব হলো রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তথা পূর্বতন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার বিধানসভা চত্বরে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে ধর্নায় বসেন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের ৮ জন নেতা। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তাঁরা সোনমের স্বাস্থ্য ও দাবি নিয়ে অবিলম্বে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন।

ধর্নামঞ্চ থেকে তৃণমূলের দাবি (Sonam Wangchuk)
ধর্মঘটে অংশ নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই আমরা সোনম ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়িয়েছি। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে অবিলম্বে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে আলোচনার রাস্তা খুলতে হবে”। প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে ‘পয়েন্ট অফ অর্ডার’ তোলার চেষ্টা করেন এবং কেন্দ্রের উদাসীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় (Sonam Wangchuk)
তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের এই ধর্না কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, সোনম ওয়াংচুকের মতো অরাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানো তৃণমূলের এই ভূমিকা একপ্রকার ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’র সামিল।

রাজ্যে যখন বিজেপি সরকার ক্ষমতায়, তখন পূর্বতন শাসক দল তৃণমূলের এই তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকাকালীন একাধিক নিয়োগ দুর্নীতি, ওএমআর শিট সংক্রান্ত বিতর্ক এবং ২৬,০০০ মানুষের চাকরি যাওয়ার মতো বিষয়গুলিতে তৃণমূল সরকার অত্যন্ত উদাসীন ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও চাকরি প্রার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মতো জ্বলন্ত সমস্যা সমাধান না করে, কেন্দ্রীয় ইস্যুতে তৃণমূলের এই ধর্না নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।পূর্বতন শাসক দল হিসেবে ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা যে উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছিল, তা আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
রাজ্যের অভ্যন্তরে শিক্ষাক্ষেত্রের নানা সমস্যার সমাধান না করে, কেন্দ্রীয় ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিরোধী শিবিরের এই আন্দোলন তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার কৌশল কি না, তা নিয়ে এখন নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।

