India Vs England
Bengal Liberty
ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে(India Vs England) সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও ইংল্যান্ড। অনুরাগী ও ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা পূরণ করে দুর্দান্ত এক শতরান করলেন ভারতের ‘হিটম্যান’ রোহিত শর্মা। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে বিরাট কোহলি খেললেন ৭৪ রানের একটি চোখধাঁধানো ইনিংস, যা সমর্থকদের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
কিন্তু এত কিছুর পরেও শেষ রক্ষা হলো না। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় ম্যাচে হেরে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হাতছাড়া করল ভারত। আর এই হারের পর অধিনায়ক হিসেবে শুভমান গিলের ব্যর্থতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো যে দলগুলোর বিরুদ্ধে ভারত সাধারণত রাজকীয় জয় তুলে নেয়, তাদের কাছেই এখন পরপর সিরিজ হারতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই ব্যর্থতার দায় কি অধিনায়ক শুভমান গিল এবং প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর নেবেন না? এশিয়া কাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের কৃতিত্ব নিতে যখন টিম ম্যানেজমেন্ট ও কোচ প্রথম সারিতে থাকেন, তখন এই শোচনীয় হারের দায়ও তাঁদেরই নেওয়া উচিত—এমনটাই মনে করছেন ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা। টি-২০ সিরিজে আয়ারল্যান্ডের কাছে লজ্জাজনক হারের পর ওয়ানডেতেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একই ফলাফল। এরপরেও কোন যুক্তিতে প্রধান কোচের দায়িত্বে বহাল আছেন গৌতম গম্ভীর, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ইংল্যান্ডের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের সামনে অসহায় ভারতীয় বোলাররা(India Vs England)
এদিন লর্ডসে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। এরপর পুরো ইনিংস জুড়ে দেখা যায় ইংরেজ ব্যাটারদের একচেতিয়া দাপট। বেন ডাকেট খেললেন ১৪১ রানের এক অসাধারণ ইনিংস। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার জ্যাকব বেথেল করলেন ৯১ রান। শেষের দিকে জো রুটের ৪১ বলে ৭৪ এবং জস বাটলারের মাত্র ১৩ বলে ৪১ রানের টর্নেডো ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৮৭ রানের পাহাড় গড়ে ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের সামনে ভারতীয় বোলাররা যেন ম্যাচ শুরুর আগেই আত্মসমর্পণ করে দিয়েছিলেন। বিশেষ করে পিচ স্পিন-সহায়ক হওয়া সত্ত্বেও কোন যুক্তিতে গম্ভীর ও শুভমান গিল চার জন পেসার খেলালেন, তা নিয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জসপ্রীত বুমরাহর চোটের পর কুলদীপ যাদবের মতো স্পিনারকে এই উইকেটে না খেলানো টিম ম্যানেজমেন্টের মস্ত বড় ভুল কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

রোহিতের ঐতিহাসিক শঞ্চুরি, তবুও হারল ভারত(India Vs England)
৩৮৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা অবশ্য চমৎকার হয়েছিল। ইনিংসের শুরুটা দেখে অনেকেই ২০০২ সালের ঐতিহাসিক ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনালের কথা মনে করছিলেন, যেখানে ৩২৫ রান তাড়া করতে নেমে বীরেন্দ্র সেহওয়াগ ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ওপেনিং জুটি ১২০ রান তুলেছিল। এদিন শুভমান গিল ও রোহিত শর্মা প্রথম উইকেটের জুটিতে ১৪৭ রান যোগ করেন। গিল আউট হওয়ার পর বিরাট কোহলি ও রোহিত মিলে আবারও ১১৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন।
এই ইনিংসের পথ ধরেই রোহিত শর্মা ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৫তম শতরানটি পূর্ণ করেন। সেই সঙ্গে প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে লর্ডসের মাটিতে ওয়ানডে ফর্ম্যাটে সেঞ্চুরি করার এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন ‘হিটম্যান’। এর আগে ২০০৪ সালে এই মাঠে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের করা ৯০ রানই ছিল ওয়ানডেতে কোনো ভারতীয়র সর্বোচ্চ স্কোর।

তবে রোহিত আউট হওয়ার পরেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারতের মিডল ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটিং লাইনআপ। বিরাট কোহলি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালালেও ভারত শেষ পর্যন্ত ২৭ রানে ম্যাচটি হেরে যায়। ফলে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ পকেটে পুরে নেয় ইংল্যান্ড। টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-২০—তিনটি ফর্ম্যাটেই এখন ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স বেশ নড়বড়ে। এই পরিস্থিতিতে কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীরের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে রোহিত শর্মার অবসরের জল্পনা বাতাসে ভাসলেও, লর্ডসের এই মহাকাব্যিক ইনিংসের পর সেই গুঞ্জন স্তিমিত হতে বাধ্য। সব মিলিয়ে আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

