Bengal Liberty:
মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার জেমো পুলিশ ফাঁড়িতে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশি নির্যাতনের জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার। একই ঘটনায় আরও এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

Human Rights Commission
সূত্রের খবর, মৃত খোশবার শেখ এবং নিখোঁজ জিগরাইল ওরফে লাল—দু’জনেই কান্দি থানার নওপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় রাজমিস্ত্রি। অভিযোগ, গত ১৭ জুলাই রাতে চুরির সন্দেহে এসআই ধর্মবীর মণ্ডল ও কয়েকজন সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁদের আটক করে জেমো পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। পরিবারের দাবি, সেখানে তাঁদের ওপর ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরদিন, ১৮ জুলাই সকালে পুলিশ হেফাজতেই খোশবার শেখের মৃত্যু হয়। মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যরা তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলেও অভিযোগ করেছেন।
আরও খবর
পুলিশি নির্যাতন, ধামাচাপা ও নিখোঁজ সাক্ষীর অভিযোগে চাঞ্চল্য
পরিবারের আরও অভিযোগ, মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমে তাঁদের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়। পরিবারের সদস্যদের যথাযথ উপস্থিতি ছাড়াই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরে ঘটনাটি নিয়ে মুখ না খোলার জন্য পুলিশের তরফে সাত লক্ষ টাকার নগদ সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। এমনকি দ্রুত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও বিএসএফ মোতায়েন করা হয়েছিল বলেও পরিবারের দাবি।
Human Rights Commission
এদিকে, একই ঘটনার আর এক ব্যক্তি জিগরাইল ওরফে লাল ১৭ জুলাই থেকে নিখোঁজ। তাঁর পরিবারের আশঙ্কা, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ায় তাঁকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে অথবা তাঁর অবস্থান গোপন রাখা হচ্ছে।

Human Rights Commission
ঘটনার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে একটি বিস্তারিত অভিযোগপত্র এবং ২১ দফা প্রশ্নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৩ ধারায় খুনের মামলা রুজু, নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্ত, জেমো পুলিশ ফাঁড়ির কার্যকলাপ খতিয়ে দেখা এবং নিখোঁজ জিগরাইলকে নিরাপদে আদালতে হাজির করার দাবি জানানো হয়েছে।
Human Rights Commission
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কেন ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল এবং কীভাবে পুলিশ হেফাজতে খোশবার শেখের মৃত্যু হল, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ফিরতে পারে পাস-ফেল প্রথা! রাজ্যে সিলেবাস সংস্কারে বড় পদক্ষেপ শিক্ষামন্ত্রীর


