Bengal Liberty:
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত পূর্ব মেদিনীপুরের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবার বন্যা-পরবর্তী পুনর্গঠনের কাজে জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হলদিয়া ভবনে প্রশাসনিক বৈঠক করে জেলার পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বিডিও, এসডিও, জেলাশাসক থেকে শুরু করে বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেন তিনি(Suvendu on Haldia)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা, জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিক এবং হলদিয়ার বিভিন্ন শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরা।

উদ্বেগে মুখ্যমন্ত্রী(Suvendu on Haldia)
টানা বৃষ্টি এবং হলদি নদীর জলস্তর বৃদ্ধির জেরে হলদিয়া-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এখনও জেলার বেশ কিছু এলাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। হলদিয়া পুরসভার ছ’টি ওয়ার্ড, সুতাহাটা ব্লকের পাঁচটি মৌজা, হলদিয়া উন্নয়ন ব্লকের দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ময়নার একাধিক এলাকা, পটাশপুর, ভগবানপুর এবং চণ্ডীপুরের পরিস্থিতিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। কোথায় কীভাবে দ্রুত পরিষেবা ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
আরও খবর
পাঁচদিনের খাদ্য সামগ্রী (Suvendu on Haldia)
জেলাজুড়ে এখনও প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ত্রাণশিবিরে রয়েছেন। তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ত্রাণশিবির থেকে বাড়ি ফেরার সময় প্রতিটি পরিবারকে অন্তত পাঁচ দিনের খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধারকেও সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখনও প্রায় ৩২ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানুষের নিরাপত্তাই প্রথম। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ পরিষেবা ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ হবে।
২০ হাজার টাকা সহজ(Suvendu on Haldia)
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সাহায্যেরও ঘোষণা করা হয়েছে। ভেঙে পড়া মাটির বাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ২০ হাজার টাকা করে সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে। কৃষি, উদ্যানপালন, মৎস্য, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং সেচ দফতরকে নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই কমিটি ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষা করে রিপোর্ট জমা দেবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু ত্রাণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ নয়। বন্যার পর রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য পরিকাঠামো দ্রুত স্বাভাবিক করাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। দুর্গত মানুষ যাতে কোনওভাবেই অসহায় অবস্থায় না থাকেন, সেদিকেও আধিকারিকদের নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

৬ হাজার কোটির নতুন প্ল্যান্ট(Suvendu on Haldia)
পাশাপাশি, হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, হলদিয়ায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে HPL-এর একটি প্ল্যান্ট তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই প্রকল্পের কাজে গতি এসেছে বলে জানান তিনি। অক্টোবর মাসে প্ল্যান্টটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Suvendu on Haldia
প্রশাসনের দাবি, প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পুনর্গঠনের কাজ এখনই শুরু করা জরুরি। আর সেই কারণেই হলদিয়ার বৈঠক থেকে বার্তা স্পষ্ট—দুর্যোগ সামলে শুধু মানুষকে ঘরে ফেরানো নয়, কর্মসংস্থান ও শিল্পের মাধ্যমে হলদিয়ার অর্থনীতিকে ফের চাঙ্গা করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

আরও পড়ুনঃ অবশেষে প্রকাশ্যে এল ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডসের তালিকা!


