Kunal Ghosh
Bengal Liberty:
ভোটের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন। একযোগে ২০ জন তৃণমূল সাংসদ দল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেন। একইসঙ্গে তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থনের কথাও জানান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নে কাজ করার বার্তাও দেন বিদ্রোহী সাংসদরা।

কুণালের পোস্ট (Kunal Ghosh on NCPI)
এই দলবদল অবশ্য প্রথম থেকেই ভালো চোখে নেয়নি কালীঘাট তৃণমূল। দলবদলু সাংসদদের একাধিকবার ‘গদ্দার’ বলে আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এবার সেই আক্রমণেই যেন নতুন মাত্রা যোগ করলেন তিনি।
সরাসরি কারও নাম না করে সমাজমাধ্যমে ২০ জন দলবদলু সাংসদকেই একযোগে নিশানা করলেন কুণাল। তাঁর পোস্টে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার প্রসঙ্গ, দলের কাছে অর্থ চাওয়ার প্রসঙ্গ এবং দলবদলের পর নতুন গাড়ি কেনার ইঙ্গিত।
শখ পূরণ করতে দলবদল(Kunal Ghosh on NCPI)
কুণালের দাবি, তৃণমূলে থাকাকালীন নিজেদের ‘স্বার্থ’ এবং ‘শখ’ পূরণ করতে না পেরেই দলবদলের পথ বেছে নিয়েছেন ওই সাংসদরা। তাঁর পোস্টে কটাক্ষ, দলবদলের পর এখন আর তাঁদের কোনও ‘অর্থাভাব’ নেই।
কুণাল ঘোষের সেই পোস্টে লেখা, “নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য পার্টির কাছ থেকে টাকা চেয়ে মমতাদিকে হোয়াটসঅ্যাপ করেছিল লোকটা। মমতাদি দেননি। তারপর লোকটা দলবদলু।” এরপরই দিল্লিতে ‘রং পাল্টানোর খেলা’ এবং নতুন ইনোভা কেনার প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেন তিনি। শেষে লেখেন, “যাক, এখন আর অর্থাভাব নেই।”
দলবদলু কটাক্ষ (Kunal Ghosh on NCPI)
এর পরেই আরও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন কুণাল। তিনি লেখেন, “আচ্ছা, বিজন দলবদলুই কি আরও বড়লোক হল? গল্পের নাম—দিল্লিতে দরাদরি।” তাঁর এই পোস্ট ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
যদিও কুণাল ঘোষ তাঁর পোস্টে কোনও সাংসদের নাম করেননি, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর নিশানায় রয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন লোকসভা দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। ২০ জনের এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে সুদীপ রয়েছেন এবং তাঁরা NCPI-তে মিশে এনডিএ-কে সমর্থনের অবস্থান নিয়েছেন।

Kunal Ghosh on NCPI
দলবদলের পর এই সাংসদরা এনডিএ-র সংসদীয় বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন। জুলাইয়ে প্রথমবার ২০ জন NCPI সাংসদ এনডিএ-র বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অংশ নেন।
ফলে কুণালের পোস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দিয়ে মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন, আর তার পরেই ‘অর্থাভাব নেই’ বলে কুণালের কটাক্ষ—তবে কি এই দলবদলের নেপথ্যে রাজনৈতিক আদর্শের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বার্থও কাজ করেছে?

আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণা নিয়ে মমতার অভিযোগ! ‘কমিউনিটি’র মন্তব্য টেনে মমতাকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

