All India tmc rally controversy
Bengal Liberty, Kolkata:
রাজ্যে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা(All India tmc rally controversy) চলাকালীন প্রশাসনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সেই বিধিনিষেধকে কার্যত অগ্রাহ্য করেই রাস্তায় নামল তৃণমুল সরকার। পুলিশের উপস্থিতিতেই শনিবার বিকেলে বর্ধমান শহরের প্রধান সড়কে ব্যান্ড পার্টি, বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ড সিস্টেম সহযোগে মিছিল করে শক্তি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে।

ঠিক কী ঘটেছে? All India tmc rally controversy
শনিবার বিকেলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীনই রাজপথে নামল তৃণমুল। অভিযোগ, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বর্ধমান শহরে ব্যান্ড পার্টি ও সাউন্ড সিস্টেম সহযোগে শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের নাম করে আয়োজিত এই মিছিল ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, পরীক্ষা চলাকালীন যখন মাইক ও সভা-মিছিলের উপর কড়াকড়ি থাকে, তখন পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে এমন কর্মসূচি সম্ভব হল?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ধমান ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে গোলাপবাগ থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে নবাবহাট মোড়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি পথসভাও অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের জেরে শহরে যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কী অভিযোগ? All India tmc rally controversy
অভিযোগ অনুযায়ী, মিছিলের মধ্যে একটি টোটোর উপরে দুটি মাইক বসানো ছিল। সেই যানেই বসে এক ব্যক্তি ব্যাঞ্জো বাজাচ্ছিলেন এবং সেই সুর মাইকের মাধ্যমে সম্প্রচারিত হচ্ছিল। পাশাপাশি ব্যান্ড পার্টির বাদ্যযন্ত্রও বাজছিল জোরে। ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মিছিল ও সভায় উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান উত্তরের বিধায়ক নিশীথ মালিক, ব্লক সভাপতি মানস ভট্টাচার্য, যুব নেতৃত্ব এবং জেলা পরিষদের প্রতিনিধিরা। ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে পরীক্ষার সময় জারি থাকা শব্দনিয়ন্ত্রণ বিধি কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে তার প্রয়োগ বদলে যায়?
নিষেধাজ্ঞা কার জন্য? All India tmc rally controversy
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী এই সময় মাইক ও জোরালো শব্দে সভা-মিছিলের উপর বিধিনিষেধ রয়েছে। অথচ শহরের ব্যস্ত রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাজনৈতিক কর্মসূচি চলল। বিধায়ক নিশীথ মালিক দাবি করেছেন, সবই নাকি অনুমতি নিয়ে এবং নিয়ম মেনে হয়েছে। কিন্তু ভিডিওতে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবহার, তাহলে নিয়ম মানা হল কোথায়?
প্রশাসনের নীরবতা কেন? All India tmc rally controversy
বর্ধমান উত্তরের মহকুমা শাসক রাজর্ষি নাথ জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে প্রশ্ন উঠছে এত বড় মিছিল, এত শব্দ, যানজট তারপরও প্রশাসনের অজানা? বিরোধী শিবিরের দাবি, শাসকদলের ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব দর্শক। জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র কটাক্ষ করে বলেন, “আইন-কানুন তৃণমূলের জন্য আলাদা, সাধারণ মানুষের জন্য আলাদা।”
শিক্ষার্থীদের কথা ভাবল কে? All India tmc rally controversy
পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের শান্ত পরিবেশ দেওয়ার কথা প্রশাসনের। কিন্তু রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনের চাপে সেই অগ্রাধিকার কোথায় গেল? শিক্ষক মহলের একাংশও বিস্মিত পরীক্ষার মরশুমে এমন উচ্চশব্দে কর্মসূচি কীভাবে অনুমোদন পেল?
পূর্ব বর্ধমানের এই ঘটনা আবারও সামনে আনল প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও আইনের সমান প্রয়োগের প্রশ্ন।
