RN Ravi Oath Ceremony WB
Bengal Liberty Desk, ১২ মার্চ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিলেন আর এন রবি। তবে এদিনের লোকভবনের এই আনুষ্ঠানিক মঞ্চ শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রটোকলের মধ্যেই আটকে ছিল না। রাজ্যপালের শপথের মুহূর্তে বিরোধী দলনেতার অনুপস্থিতি এবং বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশ্যে সৌজন্য, সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানের আবহ হয়ে উঠেছিল আলাদা মাত্রার। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বাংলার রাজনীতিতে দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র। তার পাশাপাশি ড্যামেজ কন্ট্রোল করতেও দেখা গেল শাসক শিবিরকে। সব মিলিয়ে এদিনের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
শপথ নিলেন আর এন রবি (RN Ravi Oath Ceremony WB)

আজ, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ নির্ধারিত সূচি মেনেই লোকভবনে শুরু হয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত রাজ্যপাল আর এন রবিকে শপথবাক্য পাঠ করান কোলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্যপাল এদিন হিন্দিতে শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী সহ প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা। তবে অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (RN Ravi Oath Ceremony WB)।
প্রসঙ্গত, প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের ইস্তফার পর দায়িত্ব নেন আর এন রবি। তামিলনাড়ুতে তাঁর রাজ্যপাল থাকাকালীন ডিএমকে সরকারের সঙ্গে বিল সংক্রান্ত সংঘাত বহুবার জাতীয় রাজনীতির শিরোনামে উঠে এসেছিল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের সরকার পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁকে অপসারণের আবেদন জানিয়েছিল। ফলে বাংলায় তাঁর আগমন রাজ্য-কেন্দ্র সম্পর্কের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিমান বসুর প্রতি মমতার সৌজন্য (RN Ravi Oath Ceremony WB)

শপথ অনুষ্ঠানের মাঝেই নজর কাড়ে আর এক দৃশ্য। অনুষ্ঠানস্থলে তৃতীয় সারিতে বসে ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। তাঁকে দেখে নিজেই এগিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসিমুখে বলেন, “বিমানদা, পিছনে কেন? সামনে আসুন।” শুধু ডাকাই নয়, নিজে হাতে চেয়ার এগিয়ে দিয়ে তাঁকে সামনে এনে বসান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই ছিল কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের আসন। ওই সময় ফিরহাদ হাকিম বিশেষ প্রয়োজনে সাময়িক ভাবে বাইরে গিয়েছিলেন। তাঁর ফাঁকা চেয়ারটিতেই বর্ষীয়ান বাম নেতাকে সযত্নে বসতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তাঁর শারীরিক অবস্থারও খোঁজ নেন। সাম্প্রতিক সময়ে জনসমক্ষে বিমান বসুর প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এই সৌজন্যমূলক আচরণ তৃতীয়বার দেখা গেল।
অনুষ্ঠান শেষে আরও একটি দৃশ্য নজর কাড়ে। বাইরে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেখেন বিমান বসু গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। তখন নিজের গাড়ি আগে আনতে বারণ করে তিনি বিমান বসুর গাড়ি আগে আনতে বলেন। গাড়ি এলে নিজে তাঁকে উঠতে সাহায্য করেন। বিমান বসু থ্যাঙ্ক ইউ জানালে, তারপর নিজের গাড়িতে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী।
ড্যামেজ কন্ট্রোলে কুণাল (RN Ravi Oath Ceremony WB)
এই ঘটনাকে ঘিরে পরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হলে ড্যামেজ কন্ট্রোলে আসরে নামেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, মেয়র অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকায় সেই আসনেই বিমান বসুকে বসতে দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে অযথা রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। তিনি বলেন, সিপিএম দেখেও শেখে না, ঠেকেও শেখে না। শুধু মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেরেব্বাজিতে আছে ওরা।”
আরও পড়ুন-
RN Ravi Oath Ceremony: লোকভবনে নতুন অধ্যায়, লক্ষ্মীবারে শপথ নেবেন নতুন রাজ্যপাল আরএন রবি, উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী
Mamata on CV Ananda Bose Resigns: রাজ্যপাল ইস্তফা দিতেই সংঘাত চরমে, কেন্দ্রের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মমতা!
বিরোধী দলনেতার এক্স পোস্টে শুভেচ্ছা বার্তা (RN Ravi Oath Ceremony WB)
As the Leader of the Opposition of West Bengal Legislative Assembly, with great respect I would like to extend a warm welcome to Shri R.N. Ravi Ji, as the new Hon’ble Governor of West Bengal.
Your distinguished service as a former IPS officer and your experience in Governance… https://t.co/LzRIyESTJp pic.twitter.com/qEkFhipDyq— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) March 12, 2026
এই দিন অনুষ্ঠানে একাধিক মুখ থাকলেও হাজির ছিলেন না বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই মুহূর্তে শুভেন্দু ও শমীক-সহ তাবড় তাবড় বিজেপি নেতারা দিল্লিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্যস্ত আছেন। সেই কারণেই তারা রাজ্যপালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন না। কিন্তু অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও নতুন রাজ্যপালকে শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি বিরোধী দলনেতা। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “আপনি আইপিএস অফিসার হিসেবে আপনার দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। আপনার মার্কদর্শন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। আমি আপনার সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছি। আমার বিশ্বাস আপনি পশ্চিম বাংলাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করবেন।”

