Vote counting
Bengal Liberty, ২ এপ্রিল :
এসআইআর- এ নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে বুধবার মালদার কালিয়াচকে যে তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে, তা নিয়ে সরব হল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court on Malda Incident)। কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে এসআইআর-এর কাজে যুক্ত তিনজন মহিলা বিচারক সহ মোট সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখার অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। শুধু তাই নয়, ঘটনার জেরে মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজিপিকে শোকজ করা হয়েছে এবং মালদার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকেও কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজন হলে তদন্তভার CBI বা NIA- এর হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। আগামী সোমবার এই সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court on Malda Incident)। ওই দিন মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, মালদার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শোকজ প্রশাসনিক আধিকারিকদের (Supreme Court on Malda Incident)
ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব ও ডিজিপিকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি মালদার জেলা প্রশাসনের শীর্ষ দুই আধিকারিক, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকেও কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কেন যথাসময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। একই সঙ্গে গোটা ঘটনার একটি প্রাথমিক রিপোর্টও তলব করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির উদ্বেগ (Supreme Court on Malda Incident)
বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে পাওয়া একটি চিঠির ভিত্তিতেই বিষয়টি তাঁদের সামনে আসে।তিনি বলেন, “গতকাল রাতে আমাদের মধ্যে কয়েকজনকে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে জানানো হয় যে মালদা জেলার কালিয়াচক এলাকায় তিনজন মহিলা-সহ মোট সাতজন বিচারককে দুষ্কৃতীরা বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে ঘেরাও করে রেখেছিল।”
প্রধান বিচারপতি আরও জানান, ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জেলাশাসক বা পুলিশ সুপার কেউই সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিজে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করতে হয়। তাঁর কথায়, ‘এই ধরনের ঘটনা বিচারকদের মনে ভয় সৃষ্টি করবে এবং বিচারব্যবস্থার স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করবে।’

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং রাজ্যের ব্যর্থতা নিয়ে অসন্তোষ (Supreme Court on Malda Incident)
শুধু রাজ্য সরকার নয়, নির্বাচন কমিশনকেও এদিন সতর্কবার্তা দিয়েছে আদালত। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জুডিশিয়াল আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সেই কারণে প্রয়োজনীয় সবরকম পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনকে।
অপরদিকে, রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই ঘটনা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার স্পষ্ট উদাহরণ।’ আদালতের প্রশ্ন, বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও কেন বিচারকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের উচিত ছিল নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত বিষয়টি জানানো, যাতে প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা যায় এবং বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। মুখ্যসচিব, ডিজিপি এবং পুলিশ সুপারের আচরণকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ বলেও মন্তব্য করেছে আদালত।

ঘটনার বৃত্তান্ত (Supreme Court on Malda Incident)
ভোটার তালিকায় নাম না ওঠাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কালিয়াচক এলাকা। এসআইআর সংক্রান্ত কাজ চলাকালীন বিক্ষোভ ক্রমশ তীব্র আকার নেয় এবং বেলা বাড়তেই সেই জনরোষ গিয়ে পড়ে বিডিও অফিসে উপস্থিত বিচারকদের ওপর।
West Bengal Election 2026: কালিয়াগঞ্জে প্রচারে বিতর্ক, জনসংযোগ করতে গিয়েই প্রকাশ্যে প্রশ্নবাণে তৃণমূল প্রার্থী@bengalliberty @SuvenduWB @BJP4Bengal @MamataOfficial @AITCofficial #bengalliberty #BengalNews #westbengalelection2026 #westbengalpolitics #westbengal #tmc #bjp pic.twitter.com/AfUuQDjrjo
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 1, 2026
অভিযোগ, কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে উপস্থিত সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে বিক্ষোভকারীরা তাণ্ডব চালায়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, গভীর রাতে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিচারকদের উদ্ধার করে।

