Tollywood safety protest
Bengal Liberty, Kolkata :
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর শুধু শোক নয়, এবার কাঠামোগত বদলের দাবিতে সরব টলিউড Tollywood safety protest। কর্মবিরতির আবহেই আজ টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে জরুরি বৈঠকে বসেছে ইন্ডাস্ট্রি, যেখানে মূল ফোকাস শুটিং ফ্লোরে বাধ্যতামূলক স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) তৈরি।

স্টুডিওতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক Tollywood safety protest
আজ , মঙ্গলবার সকালে টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিও কার্যত রূপ নেয় সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে। উপস্থিত ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির অভিনেতা ও নির্মাতারা,প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায় সহ বহু শিল্পী ও কলাকুশলী। এছাড়াও উপস্থিত রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। প্রযোজক, চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এই বৈঠকে যোগ দেন।

SOP বাধ্যতামূলক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ
সূত্রের খবর , আজকের বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু একটি সুস্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক SOP তৈরি করা। এতদিন শুটিং সেটে নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করত প্রোডাকশনভিত্তিক সিদ্ধান্তের ওপর। কিন্তু এবার ইন্ডাস্ট্রি চাইছে একটি ইউনিফর্ম গাইডলাইন, যা সব প্রোজেক্টেই মানা বাধ্যতামূলক হবে।
প্রস্তাবিত SOP-এ যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে —
১.আউটডোর শুটিংয়ের আগে ঝুঁকি নির্ধারণ (Risk Assessment)
২.সেটে বাধ্যতামূলক মেডিক্যাল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স
৩.দুর্ঘটনা মোকাবিলায় জরুরি রেসপন্স সিস্টেম
৪.কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও বিশ্রামের নিয়ম
৫.প্রতিটি ইউনিটে সেফটি সুপারভাইজার নিয়োগ
৬.উচ্চঝুঁকির দৃশ্যে বিশেষ অনুমতি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা
ইন্ডাস্ট্রির মতে, এই SOP কার্যকর হলে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
যৌথ উদ্যোগে খসড়া তৈরি
জানা যাচ্ছে, Artists Forum এবং Federation of Cine Technicians and Workers of Eastern India এই দুই পক্ষই আলাদা করে SOP-এর খসড়া প্রস্তুত করছে। পরবর্তীতে খসড়াগুলি একত্রিত করে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে এবং তা জমা দেওয়া হবে প্রযোজক সংগঠন ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে, পাশাপাশি Eastern India Motion Pictures Association-এর কাছেও পাঠানো হবে।
কর্মবিরতি ও চাপের কৌশল
এই বৈঠকের সমান্তরালেই শুরু হয়েছে কর্মবিরতি, যা কার্যত চাপ তৈরির একটি বড় কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রির একাংশ মনে করছে, শুধুমাত্র আলোচনায় নয় বাস্তব পদক্ষেপ আদায় করতে এই কর্মবিরতি অত্যন্ত জরুরি। তবে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান এলে, কর্মবিরতির রূপরেখা নিয়েও নতুন করে ভাবা হতে পারে।
ফেডারেশনের বার্তা
বৈঠকে উপস্থিত ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস জানান, এই মুহূর্তে লক্ষ্য একটাই সমস্যার স্থায়ী সমাধান।
তাঁর কথায়, ইন্ডাস্ট্রির সব অংশ একসঙ্গে বসে এমন একটি পথ খুঁজতে চাইছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও শিল্পীকে এভাবে হারাতে না হয়। অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুণ্ডুর মতো অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন শুটিং করতে গিয়ে আদৌ সবাই নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন তো? এই আতঙ্কই প্রমাণ করছে, সমস্যাটা কতটা গভীরে পৌঁছে গেছে।
আজকের বৈঠক শুধু একটি প্রতিক্রিয়া নয়, বরং একটি নতুন শুরুর ইঙ্গিত। SOP তৈরির এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে টলিউডে কাজের পরিবেশে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এখন দেখার, এই নীতিমালা কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং তা কতটা কঠোরভাবে মানা হয়। কারণ, রাহুলের মৃত্যুর পর ইন্ডাস্ট্রির একটাই অঙ্গীকার আর কোনও জীবন যেন অবহেলায় না হারায়।

