Naushad Siddiqui
Bengal Liberty:
বিধানসভা অধিবেশনের শেষ দিনে উঠে এল রাজনৈতিক সৌজন্য, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। নতুন স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, গোটা অধিবেশন জুড়েই তাঁকে বক্তব্য রাখার পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অধিবেশন পরিচালিত হয়েছে। তাঁর দাবি, অতীতে দীর্ঘ সময় অধিবেশন মুলতবি থাকায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ব্যাহত হতো; তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই চিত্র বদলেছে।

নওশাদ আরও উল্লেখ করেন, দেশের মধ্যে কেরল বিধানসভাই সবচেয়ে বেশি দিন কার্যকরভাবে অধিবেশন পরিচালনা করে। ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ সেই নজির ভেঙে দেশের অন্যতম সেরা বিধানসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, বিধানসভার ভেতরে যেমন শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের মধ্যেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রয়েছে, তেমনই সমগ্র রাজ্যেও এই পরিবেশ সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।
naushad siddiqui
অন্যদিকে, বাম নেতা মোস্তাফিজুর রহমানও নতুন স্পিকার ও কার্যপ্রণালীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে বিধানসভার যে গরিমা নষ্ট হয়েছিল, বর্তমান পরিচালন সমিতি তা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। শুধু বিধানসভাই নয়, মন্ত্রিসভাও নিয়মমাফিক ও কার্যকরভাবে কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিরোধী শিবিরের নেতাদের মুখে নতুন স্পিকারের এই প্রশংসা রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

অধিবেশন শেষে নতুন বিধানসভা ভবনের ভাবনার ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর
naushad siddiqui
এদিন অধিবেশনে রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্টও পেশ করা হয়। অধিবেশন শেষে মুখ্যমন্ত্রী, নতুন স্পিকারকে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে একটি নতুন বিধানসভা ভবন নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, আগামী দিনে আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) প্রক্রিয়া শুরু হলে বিধায়কের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বর্তমান ভবনে সকল সদস্যের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না-ও থাকতে পারে। তাই দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে ভবিষ্যতের প্রয়োজনেই এখন থেকে নতুন বিধানসভা ভবনের পরিকল্পনা শুরু করা জরুরি বলে ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ পদত্যাগের পরেই বায়ো বদলালেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

