Trinamool Congress Ludo campaign
Bengal Liberty, ১২ এপ্রিল :
প্রথমে ‘খেলা হবে ‘ স্লোগানে ভোটারদের মন জয় করার প্রচেষ্টায় ছিল তৃণমূল (Trinamool Congress Ludo campaign)। এবার ‘সাপ সিঁড়ি ‘। ভোটারদের মনে জায়গা করে নিতে গিয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্কদেরও টার্গেট থেকে বাদ রাখল না তৃণমূল। নাবালক, নাবালিকাদের অতি পছন্দের ‘সাপ সিঁড়ি’ খেলাকে এবার হাতিয়ার বানিয়ে মাঠে নেমেছে তৃণমূল। তবে ওয়াকিবহল মহলের প্রশ্ন, শুধুই কি ভোটে জেতার প্রয়াস নাকি আগামী প্রজন্মকেও অগ্রীম নিজের দলের সৈনিক বানানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল? এর আগেও বহু বার মুখ্যমন্ত্রীর ছবি বা বিশ্ববাংলার লোগো অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ব্যবহার্য সামগ্রীতে দেখা গেছে। যা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চললেও দিদি আছেন আপনি মেজাজেই! আসন্ন নির্বাচনের প্রচারের কৌশলই তার প্রমাণ বলাই যায়। আসন্ন নির্বাচনে কিশোর কিশোরিরাও কেন বাদ পড়ল না শাসক দলের টার্গেট থেকে? তাহলে কি অন্য প্ল্যানে ভিত শক্ত করতে মরিয়া ঘাসফুল? আসন্ন ভবিষ্যতের কথা ভেবেই অগ্রিম ‘সেফটি ব্যাগ’ লাগিয়ে নিতে চায়ছে তৃণমূল (Trinamool Congress Ludo campaign)?

প্রচারের হাতিয়ার ‘ সাপ সিঁড়ি ‘ (Trinamool Congress Ludo campaign)
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কৌশলের সূক্ষ্ম খেলায় নামছে ঘাসফুল শিবির। এবার ভোটের ময়দানে একেবারে নতুন চাল- লুডো। লক্ষ্য একটাই-খেলতে খেলতেই সকলের মন জয়। চেনা সাপ-লুডোর ছক, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তা। বোর্ডের প্রতিটি সিঁড়ি উন্নয়নের কথা বলছে, আর প্রতিটি সাপ তুলে ধরছে বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ। সিঁড়ির নিচে সাজানো রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নানা প্রতিশ্রুতি ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, অন্যদিকে সাপের মুখে ফুটে উঠছে বিজেপি নেতাদের ছবি এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ।
West Bengal Election এ মোদির নতুন স্লোগান | Bengal Liberty@narendramodi #NarendraModi #WestBengalElection #westbengalelection2026 #BengalLiberty pic.twitter.com/rUfoYSSpVk
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 11, 2026
বোর্ডে রয়েছে ১০টি সিঁড়ি এবং ১০টি সাপ। প্রতিটি সিঁড়ির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে একটি করে সরকারি প্রকল্প, যেমন-লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, বেকার ভাতা, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী প্রভৃতি। খেলতে খেলতে কোনও নির্দিষ্ট ঘরে পৌঁছালেই স্ক্রিনে ভেসে উঠছে সেই প্রকল্পের সুবিধা ও প্রভাব, অর্থাৎ বিনোদনের মধ্যেই শাসকদলের প্রকল্পের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরছে শাসক দল । অন্যদিকে, সাপের ঘরে পড়লেই সামনে আসছে বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝাঁপি, যা খেলায় যোগ করছে আরেক স্তরের রাজনৈতিক বার্তা।

পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রতিটি মানুষের হাতে (Trinamool Congress Ludo campaign)
এই অভিনব প্রচার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষের হাতে। আধুনিক যুগে প্রচারের কৌশলও রাখা হচ্ছে আধুনিক। সোশ্যাল মিডিয়া ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে একটি নির্দিষ্ট লিংক। সেই লিংকে ক্লিক করলেই খুলে যাচ্ছে স্মার্টফোনে ডিজিটাল লুডোর বোর্ড। ছোট থেকে বড়-সব বয়সের মানুষ, যাঁদের কাছে লুডো একটি পরিচিত ও প্রিয় খেলা, তাঁদের কাছেই সহজে পৌঁছে যাচ্ছে এই বার্তা। পাশাপশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৃণমূল নেতারা এই ছক পৌঁছে দিচ্ছে মানুষের ঘরে ঘরে।

আত্মবিশ্বাসের অভাব ? (Trinamool Congress Ludo campaign)
একদিকে ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রতি প্রচারে গিয়ে কোনও ধরনের লিংক খুলতে নিষেধ করছেন তৃণমূল নেত্রী আবার তিনিই দলীয় প্রচারে ছোটো থেকে বড় প্রত্যেকের হাতের স্মার্ট ফোনে একটি করে লিংক পাঠিয়ে দিচ্ছেন। শুধু তাই নয় প্রচারী লুডোতে নিজের প্রকল্পের সিঁড়িকে খুব উজ্জ্বল ভাবে মানুষের সামনে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন কেন? নিজের প্রকল্প নিয়ে কি আত্মবিশ্বাসী নন শাসক নেত্রী? নাকি নিজের এবং দলের প্রত্যেকের প্রচারের পরও সন্তুষ্ট নন তিনি? যেকারণে সিঁড়ি দিয়ে বোঝাতে হচ্ছে তাঁর প্রকল্পের ‘ গুড সাইড’। তবে বলাই বাহুল্য এই নির্বাচনে তৃণমূলের টার্গেট শুধুমাত্র যুব সমাজ বা শুধুমাত্র মহিলা বা সংখ্যালঘু এটা বলা ভুল হবে। প্রচারের বহর দেখে বলাই যায় পাখির চোখ হওয়া থেকে বাদ যায়নি বাড়ির ছোটো সদস্যরাও। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগেই তাঁদের মাথায় ভোটের ছক এঁকে ছক্কা ফেলতে চায়ছে তৃণমূল।
