Subrata Dutta Controversy
Bengal Liberty, ১৫ এপ্রিল :
মুখে নারী সুরক্ষার ঢালাও প্রতিশ্রুতি, আর বাস্তবে বাঁকুড়ার ওন্দা বিধানসভা কেন্দ্রে খোদ শাসকদলের প্রার্থীর হলফনামায় ‘ধর্ষণ’-এর অভিযোগ (Subrata Dutta Controversy)! তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত দত্তের (গোপে) এই স্বীকারোক্তি ঘিরেই এবার রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে বিতর্কের ঝড়। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদধন্য এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে ধর্ষণ এবং তার জেরে এক তরুণীর আত্মহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বছরই তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছিল, যা তিনি নিজেই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন।শাসকদল কি তবে বিধানসভায় এমন একজন ‘দাগি’ ব্যক্তিকেই জনপ্রতিনিধি হিসেবে পাঠাতে চাইছে? এই প্রশ্ন তুলেই এখন সরব সমালোচকরা। একজন অভিযুক্ত ‘ধর্ষক’ এবং পরোক্ষ ‘খুনি’-কে ভোট দেওয়ার আগে ওন্দার জনতা এবার কী ভাববেন, সেটাই এখন লাখ টাকার সওয়াল (Subrata Dutta Controversy)

তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপট (Subrata Dutta Controversy)
নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি হলফনামা দাখিল করতে হয়, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সব ফৌজদারি মামলার তথ্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক। নিয়মানুযায়ী, সুব্রত দত্ত তাঁর হলফনামায় ২০১৪ সালের একটি ধর্ষণ মামলা এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি নিজেই এও উল্লেখ করেছেন এই ঘটনায় আত্মহত্যা করেছিলেন ধর্ষিতা।
প্রকাশ্যে হু*ম*কি তৃণমূল নেতার! | TMC West Bengal | West Bengal Election 2026 | Bengal Liberty@BJP4Bengal @AITCofficial #AllIndiaTrinamoolCongress #westbengalelection2026 #WestBengalElection #TMCWestBengal #bjpwestbangal pic.twitter.com/elywmQRCLc
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 14, 2026
তৃণমূলের শাসনকালেই ঘটেছিল সেই ঘটনা (Subrata Dutta Controversy)
বলে রাখা ভালো, ২০১৪ সালে শাসনে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। অর্থাৎ, যতবার দলের কোনো নেতা বা মন্ত্রী বিপদে পড়েছেন দলের নেত্রী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দলের কালিমালিপ্ত অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার নিদারুণ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তবে এবার দোষ লুকোনোর জায়গা কোথায়? ২০১৪ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আর পুলিশ মন্ত্রী উভয়ই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৪ সালের এই মামলাকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেওয়ারও কোনও সুযোগ নেই, কারণ পুলিশ ও প্রশাসন তখন এই সরকারেরই হাতে। তাই নেত্রী কিংবা সৈনিক কারোরই বলার জায়গা নেই যে, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন তিনি। বলাই বাহুল্য সব রাস্তায় বন্ধ।

দাগ নিয়েই মমতা মনোনীত প্রার্থী অভিযুক্ত সুব্রত (Subrata Dutta Controversy)
গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে মানুষ। আর আজ সেই মানুষের আদালতেই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে রাজ্যের শাসকদলের ‘নারী সুরক্ষা’-র দাবি। যে দল ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর কথা বলে, সেই দলেই ধর্ষণ ও প্ররোচনায় আত্মহত্যার মতো জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তের মাথায় শীর্ষ নেতৃত্বের আশীর্বাদের হাত কতটা নৈতিক? ওন্দার মানুষের সামনে এখন একটাই বড় পরীক্ষা— তাঁরা কি বিধানসভায় একজন দাগি ‘ধর্ষক’ এবং ‘পরোক্ষ খুনি’-কে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাবেন? নাকি ভোটবাক্সে এই চরম নির্লজ্জতার বিরুদ্ধে যোগ্য জবাব দেবেন? এবার ব্যালট বক্সে মানুষ চুপ থাকে, নাকি প্রতিবাদের ঝড় ওঠে ইভিএম-এর বোতামে! সবটাই জানা যাবে ৪ মে।
