Women Reservation Bill
Bengal Liberty, Kolkata :
সংসদের বিশেষ অধিবেশন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি Women Reservation Bill। বহু প্রতীক্ষিত মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে একদিকে যখন কেন্দ্র ‘নারী ক্ষমতায়নের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’-এর দাবি করছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের একাংশ এই বিলের আড়ালে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের রাজনীতি দেখছে। ফলে বিলটি এখন শুধুমাত্র নীতিগত নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও বিতর্কের কেন্দ্রে।

মহিলা সংরক্ষণ বিল: কেন্দ্রের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ Womens Reservation Bill
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের দিশা দেখাচ্ছে। লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই বিল আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই এই বিলকে “নারী সম্মানের প্রতীক” বলে উল্লেখ করেছেন।

ডিলিমিটেশন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বিরোধীরা?
তবে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসকে শর্ত করে কেন্দ্র নাকি রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে এই ইস্যুতে সরব হয়েছে বিরোধীরা। তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘চতুর চক্রান্তে’র অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ডিলিমিটেশনই আসল এজেন্ডা, মহিলা সংরক্ষণ কেবল অজুহাত।” অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ অবশ্য মনে করছেন, সরাসরি বিলের বিরোধিতা না করে এই ধরনের প্রশ্ন তোলা একটি কৌশলী রাজনৈতিক অবস্থান বিরোধীদের।
ভোটের মাঝেই দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদদের তড়িঘড়ি উপস্থিতি
রাজ্যে নির্বাচনী প্রচার জোরকদমে চললেও তৃণমূলের অন্তত ২০ জন সাংসদ দিল্লিতে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়দের মতো সিনিয়র সাংসদরা থাকবেন এই অধিবেশনে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মাঠে প্রচারে ফোকাস না রেখে দিল্লিতে এই তৎপরতা প্রমাণ করে কেন্দ্রীয় ইস্যুতে তৃণমূল চাপের মুখে রয়েছে।
কংগ্রেস ও ডিএমকের কড়া অবস্থান
এই ইস্যুতে কংগ্রেসও সরব। এই ইস্যুতে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেস সাংসদ কে. সি. ভেনুগোপাল (K. C. Venugopal) সরাসরি সরকারের উদ্দেশে তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ, এই বিল বাস্তবে এখনই কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই। ডিলিমিটেশন ও জনগণনার শর্ত জুড়ে দিয়ে সরকার ২০২৯ সালের পর পর্যন্ত বিষয়টি ঠেলে দিতে চাইছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান কাঠামোয় এই বিল সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাই তা পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহার করা উচিত। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর ডিএমকে-ও এই ইস্যুতে কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাংসদদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে, যা বিরোধীদের যৌথ কৌশলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
লোকসভা আসন বাড়ানোর পরিকল্পনা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ করা হতে পারে। এর ফলে জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের জন্য সুযোগ তৈরি করবে।
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট এই বিল ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। । কেন্দ্র যেখানে নারী ক্ষমতায়নকে সামনে রাখছে, বিরোধীরা সেখানে বাস্তবায়নের সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এখন দেখার, এই টানাপোড়েনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয় দেশের রাজনীতি।
